Thursday, January 19, 2023
ছুটিতে ছুটোছুটি (অজন্তা কাণ্ড)
Sunday, January 15, 2023
নবান্ন
Friday, December 30, 2022
ইয়ার এন্ড - ব্যলান্স শিট
বছর প্রায় শেষ হতেই চলল।মানে ক্যালেন্ডার ইয়ার। আমার জন্মদিনের বছর থেকে ধরলে সবে শুরু, ফিনাশিয়াল ইয়ার ধরলে ঢের দেরী, আপিসের ইয়ার শেষ হওয়া ধরলেও সবে মাঝ বয়স। ক্যালেন্ডার ইয়ারের হিসবেই ভাবা যাক। মাঝে মাঝেই ভাবি জীবনের উদ্দেশ্য কী? ভেবে কূল পাইনা তেমন। ঋকানন্দ মহারাজের তো সাধনায় সিদ্ধি হয়নি এখনো, তাই বুঝেই পাইনা এই যে জীবন খানা পাওয়া গেছে এ নিয়ে ঠিক কী করার ছিল আমার? সেদিন বন্ধুদের আড্ডায় সবাই আওয়াজ দিচ্ছিলো যখন, আমার কথায় কথায় চল বেড়াতে যাই নিয়ে আমিও খুব বলছি তামাশা করে, "না না, বেড়ানো আবার কেন! ওসব ভাল্লাগেনা, সারা সপ্তাহ কাজ করবো, উইকেন্ডে শপিং মলে যাবো কিংবা কাছাকাছি সাজানো রিসর্টে, ফূর্তি করে মদ টদ খেয়ে ফিরে আসবো। বেড়ানো ওই বছরে একবার গেলাম কিংবা দু বছরে, অত বেড়ানো ভাল্লাগেনা"। লিখতে লিখতেই শিউরে উঠছিলাম! ওরে বাবারে, এ কী লিখছি! এ জীবন বাঁচে বহু লোকে, তাদের সেটা চয়েস অবশ্যই কিন্তু এ জীবন আমি পেলে পাগল হয়ে যাবো। বেড়ানো মানে ঘর থেকে বেরিয়ে এলোমেলো রাস্তা ধরে হাঁটা কিংবা কাছাকাছি কোনো গাছেদের মাঝে কিংবা জলের কাছেতেও ধরি অবশ্য আমি। সুতরাং ব্যালেন্স শীটের খাতায় বেড়ানোটাই আগে ধরা যাক। তা হয়েছে, অনেকদিনের স্বপ্নের জায়গা দেখা হয়েছে এবারে। উদয়পুর, চিতোর, মাউন্ট আবু, সামসিং, লাদাখ, রাঁচী, নেতারহাট আর অজন্তা ইলোরা, আওরাঙ্গাবাদ; ঐতিহাসিক জঙ্গল পাহাড় । এছাড়া খুচরো ঘোরাঘুরি গুলোকে ওড়ালে হবে না, ওরা আমার রোজের মাছভাজা, না পেলে প্রান আনচান করে। ওই যে আমাদের আশ্চর্য পিকনিকটা, কিংবা, শীতের কোলকাতা ঘোরা, কিংবা রাত জেগে বন্ধুর পাড়ায় ঠাকুর দেখা, কিংবা ভ্যাপসা গরমে দু উজবুকের ড্যামের ধারে দাঁড়িয়ে থাকা, বটগাছের তলায় বসে গরম কচুরিতে কামড়, বর্ষার জঙ্গলে ঢাকা পাহাড় উঠতে গিয়ে ঝিঁঝির ডাক, বর্ষায় ভেজা আমলামেথি নামের গ্রামটা, অচেনা আশ্রমে হুট করে পেয়ে যাওয়া মধ্যাহ্ন ভোজন, গ্রামের রথের মেলায় বৃষ্টিতে ভেজা... কম নয় কোনোটাই।
আমার এক হাফ বন্ধু, মানে পরিচিতের একটু বেশী কিন্তু বন্ধু মানে যদি বিপদের দিনে পাশে পাবে ভাবো তেমন না , তা সচারাচর বেশীরভাগ পরিচিতই তাইই হয় তবু আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কিছু উজ্জ্বল মুহূর্ত এদের জন্যেও তো মেলে তাই এ নিয়ে অভিযোগ নেই। তা যা বলছিলাম, সে ভারী মনঃকষ্টে থাকে, তার জীবনই এতো জটিল কেন, এত সমস্যা তারই কেন হয়। যেমন অনেকেরই আমাদের মনে হয়, ইনফ্যাক্ট হয়ত আম্বানির ব্যাটারও হয়। আসলে চোখের সামনে হাতের পাতা ধরলেও তা পাহাড়প্রমান হয়ে দাঁড়ায় কিনা, অমন মনে হয়। আমারই কত্ত সময় মনে হয়েছে যে জিনিসটা লোকে না ভাবতেই পায় তার জন্য এত দৌড় কেন করতে হয়, কেন আমার বেলাতেই টিকিট কাউন্টার বন্ধ হয়ে যায়, আমাকেই কেন একটা কাজে চারবার দৌড়তে হয়? রাগ হয়, মন খারাপ হয়, তারপর তর্ক যখন শান্ত হয়, আঁচরদাগা বন্ধ হলে দেখি আরে খালি কোথায় হে, ঝোলা তো ভরেইছে দিব্যি। হ্যাঁ সবার ঝোলা কী আর এক জিনিসে ভরে, চেয়ে দেখ রে ব্যাটা তোর ঝোলায় যা ভরেছিস তা দাম দিলেও তো মেলে না সব সময়! তা ঝোলা বলতেই মনে হল, মানুষের মন এক চায় করে এক এমন দলেই পড়ি আমি। ইচ্ছে আমার ঝোলা নিয়ে বেরিয়ে যাই, দু চার দানা যা জোটে তাই নিয়েই চলুক দিন পাহাড়ে, নদীর ধারে, রাস্তায় কিন্তু করার বেলায় দেখো! ঝোলা নিয়ে তাঁবু গেড়ে বসে গেলে। আরে ও কী তোমার সয়! এক জায়গায় অনেকদিন রয়ে গেলে ঘাস, জল সব যে পুরোনো হয়ে যাবে! চেনা জলে তেষ্টা মিটবে,প্রাণ জুড়োবে কি? সুতরাং এ বছর ঝোলা তুলে নেওয়া হল। নতুন চলা সব সময়েই অনিশ্চিত, আকর্ষক একটু সন্দেহাকুল, তাও চলা তো বন্ধ করা যায় না।
সে অর্থে প্রতি বছরই কিন্তু কিছু কিছু পেয়ে থাকি বছরের থেকে। কোনো বিক্রিয়ার শেষ কী জানতে হলে হাবিজাবি কাজ করে যেতেই হয় যেতেই হয়, নয়ত অনন্ত অপেক্ষা নিয়ে বসে থাকতে হয় কী রেজাল্ট আসবে? প্রসেস চলাকালীন মনে হয় ধুস শালা এ কী করে চলেছি, তারপর এক সময় জিনিসটা শেষ হলে একবার ড্রোন ভিউতে দেখলে বোঝা যায় অতটা খারাপও ছিল না পুরো ব্যপারটা। জীবন কখন থেমে যাবে কে জানতে পারে, কখন কী দেবে তাই বা কে বলতে পারে কিন্তু প্রতিটা গবেষক, প্রতিটা ঐতিহাসিক প্রতিটা পথিক জানে শুরুর আগের সেই অকূলপাথার ভাব, পথের শ্রম কিন্তু পার হয়ে গেলে ওই পথটাই ভরসা জোগায়, আনন্দ দেয়....নতুন বছর আসুক সব অনিশ্চয়তা সব ভরসা নিয়ে।এ বছরটার মুচকি হেসে বলছে একবার তাকাও হে শুরুটা খুব নিশ্চিন্তের ছিল না, কিন্তু তাও তোমার যাত্রাকেমন হল বলো? ধন্যবাদ জানাই হে, অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই।
Sunday, December 18, 2022
প্রি-ওয়েডিং
Wednesday, November 30, 2022
কোনো একদিন...
Sunday, October 9, 2022
পুজোয়
হনহন করে হাঁটছিলাম, একটু আগে চড়কতলা পেরিয়ে এসেছি। একটা মুদির দোকানে সস্তার কিছু জিনিস, অল্প ভীড় পেরিয়ে বাঁয়ে ঢুকতেই বাগদি পাড়া। এখানে বাগদি পাড়া, কুমোর পাড়া, বাউন পাড়া, মুসলমান পাড়া,এসব বিস্তর আছে। বাগদি পাড়াটা গরীব মানুষের বাস বোঝাই যায়। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা বা ওরকম কিছুতে তৈরী হওয়া সংকীর্ণ জায়গায় পলেস্তরা ছাড়া বাড়ি, দু বাড়ির মাঝের সরু রাস্তায় বেঁধে রাখা ছাগল।আজ নবমী। নবমী মানেই সবাই দল বেঁধে স্রেফ ঠাকুর মন্ডপে বসে থাকে বা আড্ডা দিয়ে কাটায় এই কল্পনাটাও শহুরে মধ্যবিত্তের। একটা লোক ঘর ছাইছে, গরুকে খেতে দিচ্ছে একজন। বাগদিপাড়ার পর আবার রাস্তা নেই, মাঠ আর মজা পুকুর৷ মালিক পাড়া মাঠ উন্নয়ন প্রকল্প বলে একটা বোর্ড টাঙানো। লোকজন তেমন নেই, মজা পুকুরেই একটা বউ বাসন মাজছিল, বাঁশবাগানের নীচ দিয়ে রাস্তা দেখিয়ে দিল। বৃষ্টি হয়েছে কালকেও,রাস্তা ঘাট কাদা। কোথায় যাচ্ছি কে জানে! অনেক দূর থেকে মাইকে মন্ত্রের আওয়াজ ভেসে আসছে,নবমীর হোমেরর মন্ত্র। মাঠে এখন ধানগাছের চারা, সবুজে সবুজ হয়ে আছে। একটা দুটো ক্ষেতে, পটল বেগুন হয়েছে। বেড়া আর জাল দিয়ে ঘেরা সেগুলো। খানিক বাদে আর যাবার রাস্তা নেই, মানে আছে হয়ত,মাঠ দিয়ে দিয়ে, সে আলপথ জলে কাদায় আমি চিনতেও পারবো না।
আবার অন্য রাস্তা নিই একটু পিছিয়ে। চলতে গেলে এই যে নতুন রাস্তা দেখা হয় কিছু রাস্তা ভুল হয় কিছু রাস্তা ঠিক, এ বড় মজার। এর স্বাদ একবার পেলে না চলে থাকা যায়না। এবারে একটা ভালো রাস্তায় পরেছি, এ জায়গাটার নাম খ্যামপুর। আজব নামটা! শ্যামপুরের অপভ্রংশ কি? একজন আমায় দেখে চিনতে পেরে জিজ্ঞেস করলো কোথায় যাচ্ছি, আমি নিজেও কি আর জানি কোথায় যাচ্ছি! সে আমায় বাড়ির দিক দেখালো, আমি তো বাড়ি যাবো না, কোথায় যাবো সেও বলতে পারছিনা, এই হেঁটে আসি একটু বলে কোনোরকমে এগিয়ে যাই।
কালভার্ট পেরিয়ে বাঁয়ে খাল রেখে এগোচ্ছি। আচ্ছা আশ্বিন মাসে ধানের চারা আরেকটু বড় হবার কথা না? কার্তিকেই তো ধান পাকে নাকি? জীবনানন্দের কবিতায় কার্তিকে ধানের কথা ছিল না? কবিতা অবশ্য পড়িইনি কিছু তেমন। কিই বা করেছি, কবিতা বুঝতে পারি না, রাগ রাগিনী চিনিনা, গাছ, পাখি, পোকা ফুল, শস্য কিচ্ছু চিনিনা। প্রকৃতিকে স্রেফ হিংস্রে থাবায় ধরেছি, তার কোন তারে কোন সুর কিছুই ধরতে পারিনি। জোর করে সম্ভোগে যে সুখ থাকেনা ছোটবেলা থেকে মানব জীবনের মূল পাঠ হওয়া বড় দরকার ছিল। ভালোবেসে জয় করতে শিখলে অনেক দুর্দশা ঘুচে যেত!
চলতে চলতে আবার একটা কোন পাড়ায় ঢুকেছি। যদিও রাস্তা চওড়া এখান৷ আমাদের এক চাষীর সাথে দেখা, নারকেল গাছের পাতা কাটছিল ছেলের সাথে মিলে। পাশেই তার ঘরে তার বউটি রান্না করছে। দূরে শীতলাতলা থেকে খুব ঢাকের আওয়াজ আসছে। এর নাম কী যেন? কাশী না? আমি ভালো চিনিনা, ও চেনে খুব। ' বাড়ি এসবেনে দাদা, বসে জল টুক খেয়ে যাও।' আমি কারো বাড়ি যেতে ভারী অস্বস্তি বোধ করি। গরীব বড়লোক, আত্মীয়, বন্ধু ব্যপার না, আমার ভারী সংকোচ হয়। তাই কোনো মতে সে ডাক সরিয়ে এগোই। আসার আগে, ' আসবেনে এখন তাহলে? ঠাকুর দেখতে বেরিয়েছ বুঝি, তাহলে সামনের শীতলাতলায় খুব বড় পুজো হয় দেখে এসোগে যাও", বলে আগিয়ে দিলো খানিক।
শীতলাতলার পুজোর ঢাকের আওয়াজ, থেমে থেমে পড়া মন্ত্রের আওয়াজ শুনতে পাচ্ছিলাম খুব। খুব সেজে গুজে একটা ছোট্ট নেয়ে চলেছে আমার সামনে সামনে। একটা ছোট ছেলেও সাইকেল বাগিয়ে চলেছে ওইদিকেই। পিছন থেকে তার মায়ের ডাক ভেসে আসছে, "দেবুউউ কোথায় যাচ্ছিস খেয়ে যা আগে"। পথের ধারে টিউবওয়েলে ন্যাংটা খোকা চান করছে, দু চারজন বাঁশের মাচায় বসে তাস খেলছে। ঠাকুরপুজো ডাঁয়ে রেখে ফের এগোই। আবার ভুল করে মাঠের মধ্যে খানে এসে পড়েছি, আল পথে পা টিপে টিপে এগোচ্ছি, গ্যাঙোর গ্যাঙোর করে ব্যাঙ ডাকছি ধান জমি থেকে, এখানে কোনো মন্ত্র আওয়াজ কিচ্ছু নেই, স্রেফ, ঝিঁঝিঁ্র আওয়াজ আর ব্যাঙের ডাক। দিনেরবেলা ঝিঁঝিঁ শুনলে ভারী অবাক মতো লাগে না? এইবার রাস্তাটা চেনা, একটা পুকুরের পৈঠায় এক বুড়ো একা একা বসে, এর উৎসব নেই। ভীমতলায় কুমারী পুজোর পর তাকে নিয়ে বেরিয়েছে। ছোট্ট মেয়েটা খুব সেজেগুজে অস্বস্তি আর অবাক ভাব নিয়ে বসে আছে ভ্যানে, পিছনে পিছনে একগাদা মেয়ে আর বাচ্ছা নেচে-কুঁদে চলেছে। পরিচিত পুরোনো হিন্দি গানের সুর বাজাচ্ছে একটা লোক আরেকটা ভ্যানে।
নবমীর বিকেলে খবর পেলাম এক বৌদি মারা গেছে। লড়াই চলছিলই, কষ্ট লাঘব হল আর কি। ব্যাস অশৌচ শুরু হয়ে গেল আমাদের। সে অর্থে শোক তো আমায় বা আমাদের ছোঁয়নি। তাহলে এ অশৌচের মানেই বা কি! আমি মানিনা, মানছিও না আলাদা কথা কিন্তু লোকে যুক্তি দিয়ে ভাবে না কেন একবারও? অবশ্য ঢাক বাজিয়ে পুজো করা, উল্লাস করা দৃষ্টিকটু হত, কিন্তু প্রেতকে পিন্ড দেওয়া হয় বলে একদিন তিল কলা খাওয়া যাবে না এর মানে কি! আমি প্রেত হলে যে আমায় অমন পিন্ড দেবে তাকে ঠাস করে চড় মেরে বলব ইয়ার্কি মারা জায়গা পাস না হতভাগা! ডেকে এনে তিল, কলা দিচ্ছিস!! তাছাড়া প্রেত বলা মানেই মৃতকে অসম্মান করা হয় না?! প্রেত হয়ে তিল কলার লোভে ঘুরছে কেউ এ কেমন কথা!
পাশের ক্লাবের ছেলেদের ডেকে ভাসান দেওয়া হলেও, দুঃখটা একই রকম লাগে। প্রতিমার মুখটা আস্তে আস্তে ডুবে যায় জলে, আর অকারণ মনখারাপ এসে থাবা মারে। ফাঁকা মন্ডপে একা একা আমষট্ বসে বসে পাহারা দেয়, অপেক্ষা করে কি?
বিজয়ার শুভেচ্ছা রইলো। ভালো হোক,শুভ হোক। মিষ্টি খেয়ে জিভ এলিয়ে গেলে, জল খেয়ে ফের মিষ্টি খাওয়া হোক।
Thursday, September 1, 2022
পড়ে পাওয়া চোদ্দ আনা (৫)
Friday, August 5, 2022
নুড়ি আর জল
Tuesday, July 19, 2022
পড়ে পাওয়া চোদ্দ আনা(৪)
Saturday, May 14, 2022
পড়ে পাওয়া চোদ্দ আনা...(২)
পড়ে পাওয়া চোদ্দ আনা.. (১)
পড়ে পাওয়া চোদ্দ আনা... (৩)
দুপুরে পিছনের অশ্বত্থ গাছটা থেকে ঝিরিঝিরি হাওয়া ভেসে আসে। আমাদের গ্রামে অশ্বত্থকে বলে আশুথ গাছ । বট আশুথের হাওয়া বড় মিঠে হয়। গরমে আগে এ অঞ্চলে আসিনি। মাসখানেক আগে যখন এসেছিলাম তখন লু বইত, বন্ধুরা এসেছিল। সপ্তাহান্তের দিন, দুপুরবেলা জানলা বন্ধ করে আড্ডায়,হুল্লোড়ে, তরমুজে মজে থাকতে মন্দ লাগেনি একটুও৷ বন্ধুরা না আসলেও আমি জানি ওই লু আমায় কাহিল করতে পারত না, গরম আমার শীতের চেয়ে ঢের বেশী ভালো লাগে। এবারে এসে এক দু পশলা বৃষ্টি পেয়েছি মাঝে মাঝে। গাছগুলো আবার সব সবুজ হয়ে গেছে। কাঠবিড়ালী, দোয়েল, হাঁড়িচাচা, ছাতারে, শালিখ সব্বাই ফিরে এসেছে। এমনকি পাগলা কোকিলেরাও। সকালে বেশীক্ষন ঘুমোলে ডেকে ডেকে তুলে দেয়, দুপুরে সব নিঝুম হয়ে যখন স্রেফ পিছনের বারান্দা দিয়ে অশ্বত্থের হাওয়া এসে ঘোরে তখনো কোকিলটা ডেকে যায়। মেয়ে কোকিলটাও আছে, দেখেছি। বিশ্রী দেখতে। জীবজগতে মানুষ ছাড়া আর কোনো মহিলাই মনে হয় রূপসী না। তবে যার যাতে মজে মন, কালো কোকিলটা ওই বিশ্রী ছিটছিট মহিলা কোকিলের জন্যই ডেকে ডেকে হেদিয়ে গেল!
সকালে চা বিস্কুট খাচ্ছিলাম বারান্দায়, বিস্কুটের টুকরো পড়েছিল মনে হয় বারান্দায়। একটা কাঠবিড়ালী কুটকুট করে খেয়ে গেল। ওই সময়টা কাঠ হয়ে বসে থাকতে হয়। সামান্য বাড়াচাড়তেই ছোট্ট জীবটা ভয়ে চিড়িক চিড়িক আওয়াজ করে ছুটে পালায়। বাড়ির সামনের কামিনী গাছটা ফুলে ফুলে ছেয়ে গেছে। অনেক রাতে বারান্দায় দাঁড়ালে ফুলের গন্ধে বাতাস ভারী হয়ে থাকে। আর সকালে আসে ঝাঁকে ঝাঁকে মৌমাছি। কামড়ায় না, নিজের মনে ফুলে ফুলে ঘোরে, মধু খায়, চলে যায়। কাঁঠাল গাছটায় দোয়েল আর শাহ বুলবুলিটা এসে বক্তব্য রাখে, চারদিক সরেজমিনে দেখে। হাঁড়িচাচা লম্বা লেজ নিয়ে উড়ে এসে বকে দেয়বলে মনে হয়। ছাতারেও ছাড়ে না, কেন এত বেলা অব্দি ঘুমিয়ে আছি বলে ডেকে বকে একাকার করে। সকালে খানিক পরেই আসে সব্জিওয়ালা, তারপরেই মাআআছ মাছ বলে মাছওয়ালা।
শান্ত দিন দুড়দুড়িয়ে টিম মিটিং, কাজের ফাঁকে গলে যখন বিকেলে যায় এক ঝাঁক টিয়াপাখি চক্কর কাটতে কাটতে ঘরে ফেরে ট্যাঁ ট্যাঁ আওয়াজে। সারাদিনের গল্প গাছা করে হয়ত। কে কোথায় কী নতুন জিনিস দেখেছে, জেনেছে। চায়ের কাপে, টিয়ার ঘরে ফেরায়, মেঘের লালে সন্ধ্যে নামে। এই ঘরটাও ছেড়ে দেবো আমরা, সে কাজেই আসা। অন্য ঘরে যাবো, সে ঘর খানিক বড়, খানিক কম ভাঙাচোরা। কিন্তু এ পাড়ার কাঠবিড়ালী, প্রজাপতি, ছাতারে, দোয়েল কেউই যাবে না ওখানে। এদিকের আম, কাঁঠাল, নিম গাছেদেরও দেখা যাবে না। অশ্বত্থ গাছের হাওয়াও না। আমাদের জীবনে চাহিদা কিঞ্চিৎ কম। আমাদের ভাঙাচোরা বাড়িতে বাইরের লোক না এলে অভাববোধও কিছু হয়না। এলোমেলো করে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকি। সেদিন বাজারে গেছি, রাস্তায় রাস্তায় কচুরি জিলিপির আহ্বান অগ্রাহ্য করা যায় না। হেঁটে হেঁটে এ গলি সে গলি করতে করতে একটা পুরোনো ভাঙা বাড়ির সামনে পড়েছি। এই মোটা থামগুলো ভেঙে পড়ছে, খড়খড়ি দেওয়া জানলায় ধুলোর আস্তরন। সামনের দেউড়িতে আবর্জনা। কোন প্রজন্মের শখ কোন প্রজন্মে ঘুচে গেছে কে জানে! পাশেই ইটালিয়ান সেলুনে দাড়ি কাটছে একজন, আর তারপাশেই মুরগি। মাছওয়ালা আমায় জোর করে দুটো পাবদা পুরে দেয়। আর লাগবে না বললে বলে, নিয়ে যা নিয়ে যা, এমনিই দিচ্ছি, টাকা নেবো বলেছি কি? ও দুটো তোর জন্য !
পাগলা কোকিল বৈশাখের শেষে ডেকে যায়, পাগলা মাছওয়ালা এমনি এমনি মাছ দেয়..পাগল বিনে ভালো থাকার জো নেই কিনা।