Thursday, July 16, 2015

নানারকম 5


আমার টিমটা বেশ।  কাজের বাইরেও টুকটাক এদিক সেদিক খেতে যাওয়া  ঘোরাঘুরি দিব্বি হয়। সেদিন গিয়েছিলাম বেসবল দেখতে। ক্রিকেট এর দুরসম্পর্কের মাসতুতো  ভাই আরকি। একখান ডান্ডা দিয়ে বল পেটাতে হবে, এইসা  বড় বড় গ্লাভস পরে সেই বল ধরতে হবে। অবশ্য বল পেটালেও শান্তি নেই তাকে আবার দৌড়াতেও হবে। ব্যাটফ্যাট  ফেলে , দিয়ে ছোট ছোট। যাই হোক খেলাদেখার আগে পেট পুজো বাধ্যতামূলক।স্টেডিয়াম এর কাছেই একটা বার এ ঢুকে পছন্দসইড্রিঙ্কস আর খাবার এর অর্ডার দিয়ে আড্ডা হলো খানিক। চিকেন লেটুস wrap আর JackNCoke  সাঁটিয়ে হেলে দুলে চললাম।ধামায় করে চকলেট, ক্যারামেল পপকর্ন, বাদামভাজা, নাটস, সোডা, এইসব হাবিজাবি বিক্রি করেছে গেটের বাইরে।কলোরাডোর সাথে টেক্সাস এর খেলা।তাই স্বাভাবিকভাবেই কলোরাডোরসাপোর্টার বেশি চোখে পরছে। বসে বসে আড্ডা মারতে মারতে ঝাড়ি মারতে মারতে খেলা দেখা চলল।সেদিন খেলাটা বেশ ঢিমে তালের ছিল, সাথে আবার ভরাপেট ।  সব মিলিয়ে আমাদের মধ্যে আড্ডার মেজাজটাই  বেশি। অবশ্য  বাকিদের মধ্যেও তাই, খানিক খেলা দেখল, একবার উঠে বিয়ার  নিয়ে আসলো। 


একজন দেখি মাথায় ঝাকা টাইপ নিয়ে গোলা আইসক্রিম বিক্রি করছে! মানে তার নাম অন্য কিছু হতেই পারে, তবে তাকে দেখতে অবিকল গোলা আইসক্রিম। আমাদের সামনের সিটএ দুটোঅল্পবয়েসী  ছেলেমেয়ে বসেছে। যথারীতে মেয়েটির উত্সাহেছেলেটা  কিনেছে একখান , প্রেমিকা আল্হাদ করে খাইয়ে দিলেও বস্তুটি যে খুব একটা সুখকর খেতে নয় তা ছেলেটির মুখ দেখে মালুম হচ্ছিল। মনে মনে বললাম, কি আর করবি "পরেছ প্রেমিকার হাতে.." । নিজে অবশ্য এদেশীয়  গোলা  খেয়েছি এবং ভালই লেগেছে,  রামধনুর রঙের দেখতে  ছিল,কে  জানে!









এখানে এদের  হাট কেমন হয় দেখা হয়নি । ক্যালিফোর্নিয়াতে দেখার সুযোগ ঘটেছিল। বিরাট জায়গা জুড়ে হাট  বসেছে। না শুক্রবার ছিলনা, শনিবারে।  চাষীরা তাদের ফল, সবজি এনেছে।স্যাম্পেল রাখা আছে, খেয়ে দেখো,  তারপর কিনতেও পারো নাও পারো ।  এমনি মার্কেটের থেকে দাম কম। 




শুধু সবজি কিনলে চলবে কেন, ঘরসংসারের টুকিটাকি কিনবেকিনতে হবে। ওদিকটা চলে যাও. পেইন্টিং থেকেশুরু করে ছুড়ি কাঁচি ফুলের টব সব আছে। 


একটু গলা না ভেজালেই চলছেনা? বেশ চল একঢোক পান করে  নাও। একা একা হোক  কিংবা দলবল।  স্টেজের উপর  গিটার নিয়ে গান গাইছে একটা লোক , বিয়ার হাতে নিয়ে কিংবা খালি হাতেই শুনতে শুনতে দিল জান খুশ  হয়ে যায় । 



 তারপর হাটের অন্যদিকটা ঢু  রেমেরে দেখি জামা কাপড়ও  বিক্রি হচ্ছে সস্তায়। তবে মাছ দেখিনি ওখানে। মানে খলবল করবে মাছ , 'দাদা আমাকে একটা ১কেজির  একটা দেবেন, না না ওটা না ওইযে নড়ছে যেটা পাশে হাঁ হাঁ   ঐটা', এইসব করার উপায় নেই এই যা।


এখানে H -Mart বলে একটা কোরিয়ান দোকান আছে যেখানে জ্যান্ত মাছ পাওয়া যায়। ২টো  বা ৩টে "লাইভ তিলাপিয়া" বললেই ঝপাঝপজল থেকে মাছ তুলে নেবে, তারপর  জেনে নেবে  কিভাবে কাটাতে চাই।  ১-৯ভিন্ন ভিন্ন রকম আছে।  ফিলে , ছোট করে  কাটা, বড় করে  কাটা ইত্যাদি। আমি "ছোট এবং পরিস্কার" অপশনটা নিই সাধারণত। তবে দিন দিন আমি কসাই  হয়ে যাচ্ছি। সেদিন একটা গোটা  'বিদেশী' মুরগি এনেছিলাম, (মানে রোস্টেড মুরগিকে ঠিক পাতে দেবার যোগ্য মনে হয়না কিনা তাই বিদেশী)।  তারপর এক খানা বড় ছুড়ি দিয়ে তাকে টুকরো টাকরা করে  করে তাকে  বাঙালি মুরগি বানালাম।
রকি মাউন্টেন আগের বার গিয়েই মুগ্ধ হয়েছিলাম।কদিন আগে  আবার গিয়েছিলাম। পাহাড় ঘেরা লেক আগের বারেও চোখ জুড়িয়েছিল এবারও  জুড়ালো। কিন্তু গাছের  ছায়ায় ঝরনার ধারে  শুয়ে শুয়ে  সারাদিন কাটানো হলনা এবারেও। হয় অন্য কোনো সময় কিন্তু এমন লেকের ধরে হ্যামক ঝুলিয়ে শুয়ে শুয়ে বই পড়তে আবার আসতেই হবে। 





Sunday, June 14, 2015

নানারকম ৪


 আমি বুড়ো কক্ষনো হবনা এমন কথা হামেশাই বলি আমরা। কিন্তু খেয়াল রাখিনা অজান্তেই আমাদের হাঁটুর জোর কেমন কমে যায়, কিংবা সেই ছোটবেলা থেকেই তো।সাবধানী , ভিতু ভিতু।সে যাই হোক বুড়ো হতে হলে এরকম ভাবেই হওয়া উচিত মানে আমার মতে। কোলোরাডো  ন্যাশনাল মনুমেন্টে  দেখেছিলাম দুই বুড়ো বুড়ি চেয়ার পেতে বসেছেন। সামনে নীল আকাশ ঝকঝক করছে। খানিকটা এগুলোতেই গিরিখাতটা শেষ হয়ে নেমে গেছে।ভদ্রমহিলাটি ছবি আঁকছেন আনমনে। আঁকার পর ভদ্রলোককে দেখালেন , তিনি কিছু বললেন আর  তারপর দুজনেই হেসে উঠলেন। সেই ম্যাজিক দিন গুলোর কথা দুজনে কেউ ভোলেননি একটুও। 



ওখানেই অন্য একটা পয়েন্ট এ দেখেছিলাম আর এক আঁকিয়েকে। এক মনে তুলিতে ফুটিয়ে তুলেছে সামনের আকাশ।
এরা ঘুরতে আসে অনেকটা রিলাক্স করে।  আমাদের মত আজ রাতে পাহাড়ে উঠলাম ,ভোরে নেমে মন্দির এর আর্কিটেকচার একবার চোখ বুলিয়ে মূল্যবান মতামত দিয়ে  দুপুরে সমুদ্রে ডাইভ দিয়ে বিকেলে অমুকের বিখ্যাত খাবার খেয়ে এবং বেঁধে, সন্ধ্যেবেলা পিসেমশাইয়ের জেঠতুতো বোনের ননদের জন্য উপহার কিনে তবে রাতের ট্রেন ধরবো এরকম না।
মনুমেন্ট এর কোনো একটা রিম এর উপর শুয়ে সারা সকাল দুপুর কাটিয়ে দেবে।
আমি ক্যালিফর্নিয়াতে একটা লোককে দেখেছিলাম যে রোজ সে একটি বিশেষ জায়গা থেকে  পাহাড় সমুদ্রের ওই ছবিটা আঁকতে আসত, একই ছবি খাতায় আঁকত আর ছিড়ত , সে অবশ্য খেয়ালী শিল্পী। নিচের ভদ্রলোক তা না অবশ্যই



এই সব জায়গা গুলো যখন ঘুরতে যাই দেখেছি একদল বাইসাইক্লিস্ট ওই চড়াই উতরাই ভেঙ্গে চলেছে। বাপস কি খায় এরা কে জানে। হেঁটে উঠতেই যাকে বলে জিভ বেরিয়ে যাবার হাল। আর এরা দিব্বি ওই খাড়া পাহাড় সাইকেলে করে ঘুরছে।  আমরা যেদিন মনুমেন্ট গেছিলাম ঐদিন ছিল মেমোরিয়াল ডে , একদল চির যুবক, বয়েসে হয়ত বুড়ো, বেরিয়েছিল একই ধরনের গাড়ি নিয়ে। দিব্বি লাগছিল দেখতে, একইরকম গাড়ি নিয়ে একসাথে এতজন প্রানবন্ত মানুষ দেখতে 


এদেশের কুকুরদের রাজার জীবন , সত্যি! তুষারপাতের সময়েও তাদের নিয়ে বেড়াতে যেতে হয়।  দেখি দুজন বয়স্ক-বয়স্কা  হার্লে  নিয়ে বেড়িয়েছে , একজনের কুকুর তার গলার ঝোলার মধ্যে, কুকুরের চোখে সানগ্লাস, আর তার সঙ্গিনীর পিছনের সিটে কুকুরের বসার জন্য আলাদা ব্যবস্থা, যাতে করে কুকুরের মুখ আর হাত মানে সামনের দুখানা দেখা যাচ্ছে।

বাঙালি আর মধ্যপ্রদেশে কিঞ্চিত জমি জায়গা থাকবে না তা কি হয়।  আমার নিজের হাতের রান্না খেয়েও যখন সেই জমির মালিক হতে পেরেছি তখন বলাই যায়  ভুঁড়ির  আমি ভুঁড়ির তুমি ভুঁড়ি দিয়ে যায় চেনা। একটা মজার খেলা হয়ে গেছে, ভারতীয় দেখলেই আন্দাজ করা কোন প্রদেশ এর লোক(অন্য কোনো দেশের লোককে দেখে আন্দাজ করার বিদ্যে এখনো হয়নি কিনা)। মিলে গেলে "কি বলেছিলাম না" গোছের ভাব। মনুমেন্টে যাদের হাইকিং করতে দেখছিলাম বেশিরভাগই  এদেশীয়।  ভারতীয়রা এত কষ্ট করে হাটাহাটি করে ঘুরতে বোধহয় কম ভালবাসে।  তা এরকম একজনকে বাঙালি অনুমান করেছি আর মিলেও গেছে তার পরের বাক্যে "বাবু  আর দূরে  যাবেনা "। ১০ বছরের খোকাটির  থেকেও ঢের  দূরে  বেশ কিছু কচিকাঁচা মনের আনন্দে মাটিতে বসে ধূলো মাখছে, তাদের বাবা মা দাঁড়িয়ে  মজা নিছিল বেমালুম তোয়াক্কা না করে, কারোর কারোর তো পাত্তাও দিচ্ছেনা। একটা বাচ্ছা দেখি একা, বসে বসে মাটি মাখছে, আসে পাশে বড় কেউ নেই তারপর দেখি দূরে তার বাবা হাসছে, কাছে এসে বলল কি আবিষ্কার করলে ডিয়ার  আমাকেও দেখাও।  প্রত্যেক বাবা মার স্বাধীনতা থাকবেই তারা কেমন তাদের বাচ্ছাকে বড় করবে, তবে সাবধানী আর ভিতু না শেখালেও  ক্ষতি হয়না বোধহয়।

রান্নার কথা বলতে গিয়ে মনে পড়ল, আগেই  আমি পেটুক মানুষ। পেটুক এর মধ্যে যদি গোত্র থাকে আমি তবে মিষ্টি ভুখ এবং আমিষাশী পেটুক। তা সেদিন সপ্তাহান্তে কথাও যাওয়া হয়নি।বাড়িতে বসে বসে ল্যাদ খেতে খেতে হটাত   মিষ্টি খেতে ইচ্ছে হল। এখন মিষ্টি পাব কোথায় , এত আমাদের দক্খিন্পারার মোড় না যে গেলাম আর কিনে আনলাম। তাইঅগত্যা বানাতে  গেছিলাম।নিজের বিবেচনা মতকরছিলাম। দুধটা খির বানিয়ে, আটা তা গিয়ে ভেজে তাতে দিয়ে লাড্ডু বানানোর চেষ্টায় ছিলাম। তা আটার লাড্ডু বাপারটা খুব একটা সুস্বাদু লাগছেনা, এটাকে বিসকুট এ পরিনত করি।  যা ভাবা তাই কাজ,মাইক্রো ওভেন এ ওই বস্তুত যেটা কিনাআটার  নাড়ু বলা চলে, সেটাচ্যাপ্টা করেঢুকিয়েছি, এবং আমি কি একখানা কাজ করতে লেগেছি, হটাথ কি মনে হলো সেই টিভিতে স্বর্গরাজ্যে যেরকম ধোঁয়ার মধ্যে দেবতারা দাড়িয়ে থাকে নিজেকে তেমন লাগছে। আমি এখনো জলজ্যান্ত মানুষ ধরাধামেই বর্তমান, কেসটা কি হলো ভেবে ঘুরে দেখি মাইক্রো ওভেন থেকেই স্বর্গরাজ্যের আবির্ভাব।(পরিচালকেরা সস্তায় কাজ সারতে চাইলে এভাবে ধোয়া বের করতে পারেন, কিংবা যদি কোনো মহাপুরুষকে বিতারিত করতে ধোয়ার দরকার পরে). এখানে স্মোক এলার্মটা বড় 'ইসেনসিটিভ' বোঝেনা মার্কিন না বাঙালি রান্নাঘর  , এক্ষুনি সারা পাড়া কাঁপিয়ে বেজে উঠবে, দমকল এসে যেতে পারে। চটপট আমার জ্যাকেট খানা দিয়ে ধোঁয়া মুক্ত হলাম। ও হ্যা , খাবার জন্য আটার লাড্ডু বা বিস্কুট বানালে নিজের রিস্কে, আমার কোনো দায় নেই কিন্তু।

Thursday, June 4, 2015

ব্ল্যাক ক্যানিয়ন-আর্চেস-কলোরাডো মনুমেন্ট

এক দিনে ৪ ঋতু দেখার অভিজ্ঞতা  হয়ে গেল। বলেছিলাম না কলোরাডোর আবহাওয়ার মাথার দোষ আছে, তা এইবার ঘুরতে হিয়ে আরো ভালো করে প্রমান করে দিলো।  সকালে বৃষ্টি, তারপর স্নো শাওয়ার ,মাঝে একবার গরমকালের মতো  রোদ  তারপর শরতকালের আকাশ আবার বৃষ্টি , কিংবা মেঘ নেমে আসা আকাশ । 



লং উইকেন্ডে  বাড়িতে বসে থাকার ইচ্ছে ছিল না মোটেও, যাবার জায়গার অভাব নেই কিন্তু লম্বা ছুটিতে দুরে কথাও যাবারই ইচ্ছে হচ্ছিল। এখন আমি নতুন গাড়ি চালাতে শিখেছি বলে বাকিদের আমার উপর তেমন ভরসা নেই।  আমার নিজের অবিশ্যি আছে।  কিন্তু ভিতু আরোহী নিয়ে গাড়ি চালানোর মত ভরসা আমার নেই, প্রতি মুহুর্তে মনে হবে এই বুঝি কিছু ছড়ালাম। তাছাড়া বিয়ে শাদী  করে থিতু হওয়া  লোকেদের ভয়টা একটু বেশী  হয়। তাই আমি চালাবনা ধরে নিয়ে ভাবনা চিন্তা করে ঠিক হলো মোটামুটি বাড়ির টি ৫ ঘন্টা গাড়ি চালিয়ে যাব যাবে এরকম দূরত্বে যাবার জায়গায় যাওয়া হবে।  কলোরাডোর পাশের স্টেট হলো Utah , ওখানে যাবার প্ল্যান প্রথমে করিনি। প্রথমে ঠিক হলো ব্ল্যাক  ক্যানিয়ন এবং কলোরাডো মনুমেন্ট বলে দুটো জায়গায় যাব।  ছবিতে দেখে দুটো জায়গায়ই ভারী চমত্কার লেগেছিল। 


বেড়াতে যাবার আগের আলোচনা গুলো দারুন হয়. নানারকম জিনিস করার সখ হবে কিন্তু পকেট এবং আরো সব কিছু ভেবে কাটছাট হবে, কোনো কিছুই ফাইনাল না হয়ে , চা এবং টা  উড়ে যাবে এবং আবার পরের দিন বসা হবে। 
তো যাই হোক এইসব করে আমাদের মোটামুটি একটা প্ল্যান দাঁড় করানো গেল, একদিন স্যান্ড ডিউনস , একদিন ব্ল্যাক  ক্যানিয়ন আর একদিন কলোরাডো মনুমেন্ট যাব, মানে ছুটি এবং গাড়ি দুটোকেই যতটা পারা যায় ব্যবহার করা আর কি।  কিন্তু যাবার আগের সপ্তাহ থেকে এমন আকাশ এর মুখ ভার হলো আমরা তো বেশ চিন্তায় পরে গেলাম। এখানকার আবহাওয়ার ফোরকাস্ট বেশ নির্ভরজনক , তাই  খানিকটা দমে গেছিলাম। কিন্তু বাড়িতে বসে থাকার মন নেই, তাই ক্যানসেল না করে অন্য কোনো উপায় ভাবনাচিন্তা করছি, অফিসে বাড়িতে। এদিকে আবহাওয়াটাও মজা নিচ্ছে।  ধর রাতে দেখলাম শনিবার ব্লাক ক্যানিয়ন এ বৃষ্টির সম্ভাবনা, তাই আমরা ঠিক করলাম ওই দিন মনুমেন্ট তা ঘুরে আসা  যাক. তা পরের দিন দেখি ফোরকাস্ট বদলে গেছে। শনিবার মনুমেন্ট এ আবহাব ভালো। এরকম তো নাজেহাল করলেও  আমরা না দমে বেরিয়ে পরা গেলো।ওই স্যান্ড ডিউনসটা  বদলে খালি আর্চেস  ন্যাশনাল পার্ক করেছিলাম।
সাকুল্যে ঘন্টা পাঁচেক  এর রাস্তা হলে কি হবে আমরা খাবার তুলেছিলাম মোটামুটি বড় রোড ট্রিপ  এর মতই. তার প্রধান কারণ আমরা প্রত্যেকেই জিভে প্রেম করি, আর দ্বিতীয় কারণ হলো এইধরনের ন্যাশনাল পার্ক গুলোয় আগের অভিজ্ঞতা থেকে জানি ভিতরে খাবার দাবার পাব না, আর খাবার জন্য মাঝপথে বেরোনো বোকামো। তাই আগের শুক্রবার বিকেলে গাড়ি তুলে প্রচুর মাফিন,কাপকেক, ক্রোসা,বিস্কুট,ফলমূল নিয়ে খাবো  বলে ইয়ে থুড়ি যাব বলে রেডি। 
সকালেও বেরোনোর সময় দেখি বৃষ্টি পরছে সমানে। আবার প্ল্যান চেঞ্জ।  ওয়েদার  চ্যানেল এর সাইটের  আপডেট অনুযাই  ব্ল্যাক  ক্যানিয়নই যাওয়া যাক আগে। 


আসে পাশে কিছু খামার বাড়ি, ঘোড়া  চরে বেড়াচ্ছে।  বাঁক হীন  চওরা রাস্তা। খানিকক্ষণের মধ্যেই দেখি রাস্তার ভোল বদলে গেছে, বরফ ঢাকা দুধার আর তারপরেই শুরু হলো বৃষ্টি, তারপর বৃষ্টির তা বদলে গেলো  তুষারবৃষ্টিতে।  চিন্তা হচ্ছে বেশ কিজানি ব্ল্যাক  ক্যানিয়নএ পৌঁছে  কি খেল দেখাবে। 




একটু পরে যখন আবার খটখটে রোদ  বেরোলো  দেখি আমরা একটা লেকের  ধার ধরে যাচ্ছি।  জল দেখলে আমি তো এমনিই কেমন হয়ে যাই। পাহাড়ের কলে নীল্ জল, আহা প্রানটা  জুড়িয়ে যায়।  দাড়ানো  হলো ছবি তোলা হলো। একটি মেয়ে পিঠে ব্যাগ ঝুলিয়ে যাচ্ছিল কোথায় যেন, আমাদের দেখে নিজে থেকেই এগিয়ে এলো গ্রুপ ফোটো  তুলে দেবে।  সে আসলে অন্য স্টেট এর অন্য পার্ক এর রেঞ্জার, এখানে সম্প্রতি এসেছে। 








আমরা ব্ল্যাক ক্যানিয়ন পৌছনোর খানিক আগে একটা ছোট পাহাড়ি নদীর পাশে খানিটা সময় থেমেছিলাম। নদীর পাড়  ধরে খানিকটা এগোনো গেলো। ছোট্ট  নদী হলে কি হয়, স্রোত খুব,লোকে রাফটিং করতে  নেমেছে। এখানে এরা  ঘোরে  বেশ গুছিয়ে। বোট  বেঁধে নিয়ে আসে  গাড়ির সাথেই। তারপর বাপ ব্যাটা নেমে পরে জলে।  



ব্ল্যাক  ক্যানিয়ন মানে মোদ্দা কথায় যে গিরিখাতটার পাহাড়টা  কালোকোলা  দেখতে । যেমন কিনা  ওখানেই আর্টিস্ট পয়েন্ট বলে একটা জায়গা আছে যেটা ই প্রাকৃতিক ভাবে মনে হবে কেউ তুলির আঁচর কেটেছে।


পরের দিন গন্তব্য আর্চেস  ন্যাশনাল পার্ক। আমরা যে মোটেলটাতে  ছিলাম সকালে ব্রেকফাস্ট ইনক্লুড ছিল , মানে সেটা দেখেই নিয়েছিলাম আর কি।  সকাল সকাল উঠে বেরোতে হবে , তাই  সকালে খাবার সময় খুব বেশি ছিল না, কারণ অর্চেস ন্যাশনাল পার্ক এর ওয়েবসাইট এ সাবধানবাণী ছিল যদি ৮টার  মধ্যে না আসতে পারো  তবে কপালে দুঃখ  আছে। আর্চেস ন্যাশনাল পার্কটার বিশেস্বত্ব হলো লাল পাথরের স্বাভাবিক আর্চ। এই লাল পাথর গুলোর উপর সূর্যের  আলো  এত মায়াময় হয় যে সকাল বেলা থেকেই প্রচন্ড ভিড় হয়ে যায়, আর এন্ট্রান্সটা  ফ্রীওয়ে এর মুখেই হওয়ায়  ফ্রীওয়ে তে জ্যাম এড়াতে পার্কে ঢোকা বন্ধ  করে দেওয়া হয়।  আমরা তো ঢোকার মুখেই বাধা পেলাম। মামারা দাড়িয়ে আছে আর সমানে  ইশারা করছেন যাও যাও এগিয়ে যাও ঢোকা যাবেনা। যত্পরনস্তি  হতাশ। সাতসকালে উঠে ভালো করে ব্রেকফাস্ট না করেই এত কষ্ট করে আসাটা  এরকম বেকার হয়ে যাবে! তবে সত্যি কথা বলব আমার কিন্তু ওই ড্রাইভ তাও বেশ লেগেছিল।  ধূ ধূ  মাঠ, টেবিল ল্যান্ড পাহাড়, "নো  সার্ভিস ইন নেক্সট ১০ মাইল" বোর্ড তাছাড়া ঠিক সময়ে পার্ক এ ঢুকতে পারব কিনা সেই উত্তেজনা, সব মিলিয়ে ভারী চমত্কার একটা সকাল। গন্তব্যটা আমার কাছে কোনো সময়েই তত গুরুত্বপূর্ণ হয়না যে চলার পথের সৌন্দর্যকে উপেক্ষা করে যাব। 






যাই হোক আমরা বেশ কয়েকবার পাক মারব ভাবলাম, যদি খোলা পাই।  এখন এদেশের ফ্রীওয়ে গুলোয় তো ইচ্ছে মত গাড়ি ঘোরানো যায়না।  ফলে বেশ খানিকটা পিছিয়ে এবং এগিয়ে যাবার পর দেখলাম আমাদের তেল মোটামুটি শেষের দিকে। তেলটা ভরে নেওয়া দরকার। তেল ভরে ফিরে দেখলাম রাস্তা ফাঁকা , মামারা সরে গেছে। ব্যাস আর কি চল চল.....


Wednesday, May 20, 2015

বাহনের গপ্পো

গাড়ি বাপারটা আমায় সেই ছোটবেলা থেকেই বেশ টানে। ছোটবেলায় কন্ডাক্টার হবার খেলাটা আমাদের বয়েসীরা ছোটবেলায় কমবেশী  সবাই খেলেছি। অনেক বড় বয়েস অব্দি আমার শখ ছিল আমি ট্রাক ড্রাইভার হব।  ঐরকম মাঠ ঘাট বেরিয়ে যাব, ধাবায় থেমে খাব. তারপর খোলা আকাশের নিচে ঘুমোনো। সব মিলিয়ে ওই জীবনটা খুব টানতো। সাথে ইচ্ছে মত গাড়ি চালিয়ে এক সর, রাজ্য পেরিয়ে অন্য জায়গায় পারি দেব।  কিন্তু ওই জীবনটা পেতে গেলে জ সুখ সচ্যন্দ তা ফেলে দিতে হবে সেটা আমার পক্ষে পারা সম্ভব না যখন বুঝলাম সেফ খেলা শুরু হলো।  হতাশা গ্রস্থ ভাবে লিখছি এমন না, আমি মনে করি বসবে ট্রাক ড্রাইভার হলে ওই স্বপ্নটা ফুরিয়ে যেত, আর খুব বিরক্ত হলে, হতাশ হলে, মন কেমন করলে ওই জবন্তায় চলে যাব যেত না যখন তখন. 
সে যাক যে কথা বলছিলাম, গাড়ি।  আমার কিন্তু গাড়ি চরে তত আগ্রহ ছিল না, চালানোতে। আমার বেশ মনে আছে ছোটবেলায় আমাদের গাড়িতে আমি উঠতেই চাইতামনা, কারণ আমার খুব গন্ধ লাগত তেলের আর গা গলাত। তার চেয়ে দাদের মোটর সাইকেল এর এ চড়া অনেক সহজ ছিলো।  মোটর সাইকেল স্টার্ট দিলে জ গন্ধটা বেরোত বাড়ি চমত্কার লাগত আমার। আমার গ্রামের বাড়ির ওদিকে সাইকেল তা অবশ্যম্ভাবী বস্তু আর মোটর চ্য়্চ্লেতা তখন আসতে আসতে অবশ্যম্ভাবীর  দিকে যাচ্ছে। আমাদের বাড়িতে কেউ একজন এসেছিল, মোটর সাইকেল এ করে. তখন মোটর সাইকেল বলতে "হামারা বাজাজ" নয়তো M-৮০, আর একটু রেয়ার ছিল রাজদূত।  তো আমি যথারীতি m-৮০ উপর চরে কল্পনায় রাস্তাঘাট মরুভূমি সব এক করে এগিয়ে চলেছি, এদিকে গাড়িটা স্ট্যান্ড করা ছিল একটু নড়বড়ে জায়গায়।সে আমার কল্পনার দৌরাত্য সজহ করতে না পেরে নিজেকে সরিয়ে নিল আর আমিও .... সায়লেন্সারটা  বেশ গরম ছিল সেটা এখনো মনে আছে ভালই।
ক্লাস ৪ এ পড়তে সাইকেল পেয়েছিলাম, নিজের না অবশ্যই। আমার ছোটবেলা কেটেছে মধ্যবিত্ত জয়েন্ট ফ্যামিলিতে।  নিজের সাইকেল ৫-৬ এ ওঠার আগে ভাবা যেতোনা।  আর আমি যেহেতু ক্লাস ৫ থেকেই হোস্টেল এ আমার নিসস্ব সাইকেল হয়নি কখনই। । তবে সত্যি বলব সাইকেল আজও আমার অত্যন্ত প্রিয় একটা যান।  ফোর  এ যখন প্রথম প্রথম সাইকেল এ করে স্কুল যেতাম মনে আছে বাস রাস্তা দিয়ে যাবার অনুমতি ছিল না। অন্য একটা রাস্তা যেটা একটু ঘুরে যায়,  গ্রামের ভিতর দিয়ে সেটা দিয়ে যেতাম। আর সেই সময়কার ওই রাস্তা পুকুর, মাটির গন্ধ, ঝি ঝি ডাক আমার মনটা এমন আচ্ছন্য  করে ফেলেছে সেই ঘোর  থেকে আজ কাটাতে পারিনি। সেইসময় আমি সাইকেল চালাতাম যখন নিজের সাথেই কখনো রেস  করতাম, কখনো ভাবতাম আমি দারুন এডভেঞ্চার এ বেরিয়েছি, ডাকাতদের থেকে গুপ্তধন  উদ্ধার করে যাচ্ছি আর পিছনে অদৃশ্য ডাকাতরা তাড়া  করেছে তাদের সর্দারের খুনের বদলা নিতে। সবকটা কল্পনাই  বইয়ে  পড়া গল্প গুলো এধার ওধার করে হত কিন্তু সেই সময় আমার সাইকেল, পক্ষিরাজ থেকে কিরিটির  গাড়ি, সবই হত। 
কৈশোরটা ওই সাইকেল এর ঘঘোরেই  কেটেছে। বড় হয়েও আমি কলেজে পড়তে সিকিউরিটি এর থেকে বেশ কয়েকবার সাইকেল নিয়ে চলে গেছিলাম, কাউকে কিছু না বলে, কোনো গন্তব্য স্থির  না করে এদিক সেদিক বেরিয়ে পড়তে  বেপাত্তা হতে বেশ লাগত। অবশ্য বন্ধুরা ক্ষেপে  যেত খুব।  চিন্তা করত।  কিন্তু আমার যে কোনো উপায় থাকত না, ওই রোদ্দূর , নদীর ধার সব্বাই আমায় ডাকত, আর কারোর সাথে যেতেও ভালো লাগত না, সাইকেল  ছাড়া।  
৯-১০ এ নতুন নতুন বাইক  এর বিজ্ঞাপন দেখে খুব সখ হয়েছিল নতুন বাইক  কেনার। মাধ্যমিক দিতে যাবার সময় মাকে বলেছিলাম, রেজাল্ট ভালো হলে কিন্তু বাইক  কিনে দিতে হবে।  মা সেই ছোটো  থেকে ছেলে ভুলানো গপ্প বলে কালমেঘ এর রস পর্যন্ত খাইয়ে  এসেছে আর সামান্য পরীক্ষা! অবশ্য  রেজাল্ট ভালো হয়নি তাই সে নিয়ে আর কথাও ওঠেনি।  মাধমিক এর পর ববাইক  চালানো শিখে কি উত্তেজিত হয়েছিলাম।  যদিও খুব বেশি চালাতে  পারিনি।  তবে চাকরি পাবার এক বছর হবার আগেই আমার পক্ষিরাজ খানা কিনেছিলাম।  সেকি উত্তেজনা, সুযোগ পেলেই বেরিয়ে পড়তাম।  প্রথম দিকে কিছুই জানতাম না, তেল রিজার্ভ এ পড়লে কি করব, কিংবা গাড়ির স্টার্ট বন্ধ হয়ে গেলে গিয়ার্ চেঞ্জ করে সেটা আবার স্টার্ট দেব কি করে কিছু না ,তারপর কতবার পরে গেছি। আর পরে গেলেই মনে হত আমার পক্ষিরাজ টার  কোথায় চোট  লাগলো।  তারপর গলি ছেড়ে বড় রাস্তা, তারপর হাইওয়ে, প্রচন্ড দুঃখের দিনে, আনন্দের দিনে ,গরমে,বৃষ্টিতে। উপনিষদে আছে না, এ বিশ্ব প্রপঞ্চময় , আমি উপলব্ধি করতাম , আমার পালসার  এর প্রাণ আছে।  নিঃশব্দ  অনুগত সেবক।  
















বাইক  চালানোর মজা বোধহয় লিখে বোঝানো যাবেনা।  দেশের বাড়ি যাবার পথে একটা জায়গা আছে, অনেক গাছ,দুপাশে ছায়া, ভারী মনোরম একটা সকাল কিংবা দুপুর কিংবা বিকেল। ঐখানটা দাড়িয়ে প্রাণ ভরে ফুসফুসে বাতাস ভরে তারপর রওনা হতাম।  অনেক অনেক স্বপ্নের রাইড আমার ওই বাইক  এই পাওয়া।  কিন্তু আমার কালো পক্ষীরাজ  কে আমার আস্তাবল থেকে মুক্তি দিতে হলো... 
এদেশে এলাম যখন, গাড়ি বাপারটা এদের এখানে নেসেসিটি।  তবে আমি ল্যাদ খেয়ে সেটাও শিখে উঠলাম এই সেদিন। আর লাস্ট উইকেন্ড এ  রেন্ট নিয়েছিলাম। সাদা elantra , এই গাড়িটার আমার এক পরিচিত কিনতে গিয়েও কেনেনি, গাড়িটা আমর খুব পছন্দ হয়েছিল।ফলে এন্টারপ্রাইজ থেকে এই গাড়িটাই দেবে দেখে  খুব খুশি হয়ে গেছিলাম।  আমার এক বন্ধু আমার সাথে গিয়েছিল , কারণ এদেশের নিয়ম কানুন  বড় করা. আমার লাইসেন্স আছে কিন্তু যা হয় নতুন ড্রাইভার , যাতে ছড়িয়ে লাট  না করি তাই জন্যে ।  সে আমার বাড়ি অব্দি আমার সাথে এলো এবং তারপর একটা রাউন্ড পাক খেয়ে , আসে পাশে ঘুরে সে চলে গেল।  বন্ধুটির রোড সেন্স খুব ভালো, বলল এই জায়গাটা কয়েকবার পাক দিস, গাড়ি কম, ছুটির দিন আরোই কম হবে, তারপর একটু বেশি গাড়ি বহুল রাস্তায় চালাস।  কিন্তু আমার যে  রোড সেন্স কম সেটা আমি ভুলে গেছিলাম। গুগল এ  ম্যাপ সেট না করেই বেরিয়ে পড়লাম  এবং যা হবার তাই হলো, ছোট   রাস্তা(মানে কম স্পিড লিমিট ওলা  রাস্তা) ছেড়ে চলে গেছিলাম বড় রাস্তায়। ম্যাপ সেট করা নেই, জানিনা কোন রাস্তায় কত দূর যাচ্ছি। কথাও যে  পার্ক করব, সেরকম সুযোগ ও পাছিনা।  এমনিতে পৃথিবীর সব সিগন্যাল আমায় দেখলে লাল হয়ে যায় খালি সেদিনই সমস্ত সবুজ হয়ে রইলো।  অবশেষে এক সিগন্যাল পুরনো অতীত না ভুলে লাল হলো।  আমিও স্মার্ট ফোনের সুবিধে নিয়ে মুখের সামনে এনে "হোম" বলে দিলাম।  সত্যি বলব এদেশের প্ল্যানড রাস্তা ঘাট , হাতের মধ্যে মধ্যে জিপিএস বলা ফোন নিয়ে কেউ হারাতে পারেনা জানি , তবু  বেশ  একটা রোমাঞ্চ হচ্ছিল।  
পরেরবার ডেস্টিনেশন সেট করেই বেড়িয়েছিলাম।  একটু আধটু ছড়িয়ে  পৌছেও গেছিলাম।  বৃষ্টি হবার পূর্বাভাস ছিলোই , কিন্তু তাই বলে শিলাবৃষ্টি হবি, পেরথম দিন গাড়ি চালাচ্ছি ,যত্তোসব। যা হোক , যদিও ম্যাপ এ ডেস্টিনেশন বাড়ি করা ছিল, তাও ম্যাপ  এর কথা না শুনে এলোমেলো চালালাম অনেক অনেক খন।  আর যখনি মনে হচ্ছিল হারিয়ে গেছি তখন আবার জিপিএস এর  আজ্ঞা শিরোধার্য করছিলাম।  দুদিনে ১৬০  মাইল চালিয়ে , আমর ওই বন্ধু দম্পতিকে যতপরনস্তি জ্বলিয়ে , আরো দুজনকে রাইড দিয়ে( রাস্তা ভুল করেছিলাম একটু আর তাই একটা সুন্দর লেক দেখতে পেয়েছিলাম ), এযাত্রা ভালয় ভালোয়  সাদা elantra  কে তার মালিক এর কাছে পৌছে দিতে পেরেছি।  তবে যাই হোক ট্রাক ড্রাইভার হলে মন্দ হতোনা। ..



Friday, May 8, 2015

নানারকম ৩

ডেনভারে মনে হয় ঋতুগুলো ঘেঁটে  গেছে বা ঘাঁটাই।  শীতের পিঠে ,নলেন গুড়ের রসোগোল্লা , ইত্যাদি সুখাদ্যের পর বসন্ত(সে যতই না কেনো  আমাদের কলকাতায় বসন্তকাল আর গরম কাল যমজ  ভাই হোক নিম বেগুন বসন্তকে ভুলতে দায় না ), তারপর গরম, আহা আমার প্রিয়। জানি লোকে পরলেই এটা মারতে আসবে।  কিন্তু ওই খাঁ খাঁ করা দুপুর এর পর বিকেলে ফুরফুরে হাওয়া , আম , পান্তা ভাত , হু হু বাইক।  তা কোনো ভালো জিনিসই তো পুরো ভালো হয়না, তাই প্যাচপ্যাচে গরমে শেষের দিকে নাকাল হয়ে বৃষ্টির হা পিত্যেশ। তারপর একদিন ঝমঝম করে বৃষ্টি নামে। সেই ঝমঝমে বৃষ্টির মধ্যে দিয়ে সটান হেঁটে যাওয়া, তারস্বরে গান গাইতে গাইতে।শেষে যখন বৃষ্টিতে লোকে জেরবার  তারপর তো হই হই করতে করতে একগাদা ভিড় আর সেল নিয়ে পুজো। তা যেকথা বলছিলাম।  ডেনভারে পুরো ব্যপারটা  ঘেঁটে ঘ। ফেব্রুয়ারি  মাসে তুমুর বরফ পড়ল, মার্চেও পড়ল, এপ্রিলে বৃষ্টি শুরু  হলো।  বিচ্ছিরি পচা মার্কা বৃষ্টি। ঘ্যানঘ্যানে।  এমন বৃষ্টিতে ভিজলে খালি শীত করে ফূর্তি  হয়না মোটেও। অবশ্য আমার ব্যক্তিগত কারণে বৃষ্টিটা বাজে লাগছে। এতদিন ল্যাদ খেয়ে খেয়ে আমি এই সবে ড্রাইভিং লাইসেন্স পেয়েছি। কত উত্সাহ করে শিখলাম, ডাঁয়ে ঘাড়  ঘুরিয়ে বাঁয়ে তাকিয়ে , তা এই বৃষ্টির কল্যানে চালাতে পারছিনা। সকাল বিকে অফিস যাওয়া আসা মুশকিল হচ্ছে। বিশেষ করে সকাল বেলা, যদি সারারাত বৃষ্টির পর সকালটা বৃষ্টি না হয় রাস্তা দিয়ে হাটতে মন্দ লাগার কথা না।  কিন্তু দুটো কারণে লাগছে না এক আমার এরকম বিচ্ছিরি মন খারাপ করা সকাল খুব বাজে লাগে, ঝকমকে রোদ হবে তা না হলে সকালটা  সকাল বলেই মনে হয়না, আর দ্বিতীয় কারণ হলো এই বোকা কেঁচো গুলো যারা কিনা সারাটা শীত ওই বরফের তলাতেও কি করে জানি বেঁচে ছিল সেই গাধা  কেঁচোগুলো  এখন বৃষ্টি দেখে আনন্দ তাল হারিয়ে রাস্তায়। আর তারপর গাড়ির তলায়। তারমধ্যে  কোথাও ঘুরতে যাওয়া যাবে না এই সপ্তাহে এমন বিচ্ছিরি বৃষ্টি। তারমানে ঘরবন্দি।  জঘন্য।
সেই যে বলেছিলাম না হিমালয়ান কুইজিন নাম একটা ভালো রেস্টুরেন্ট পেয়েছি।  সেইখানে খেয়ে দিল জান  অতি তর হয়েছিল আমাদের সবার , তা সেটা আমাদের বাড়ি থেকে প্রায় ৪০ মাইল হবে. শুধু খাবার জন্য এতটা  যেতে সবারই কুন্ঠা হচ্ছিল মুখে।  মানে মনে সবাই ইচ্ছে যাওয়া  হোক।  তো আমাদের দলে এক বন্ধু দম্পতি আছে তারাই খুঁজে পেতে  ঘোরাঘুরির  জন্য ওই রেস্টুরেন্ট এর কাছাকাছি একটা জায়গা খুঁজে বের করেছিল। বেড়াতে যাব আবার ভালো খেতেও পাব এই কম্বিনেশন অতি লোভনীয় , পারলে লেজ এর উপর দাড়িয়ে রাজি হই।  ব্যাস আর কি চালাও পানসি বেলঘরিয়া  থুড়ি maxwell  ফলস। 
বরফ পরা থেমে গেলে কি হবে এখনো কিছু কিছু জায়গায় বরফ জমে আছে।  বরফ গলার কারণেই হোক কি বৃষ্টি, নালার মত নদীটা বেশ জোরেই বয়ে চলেছে। আমাদের হাইকিং এর রাস্তা এই নালা রূপী  নদীর উত্স মুখে।





থামতে থামতে ছবি তুলতে তুলতে এগোনো যাচ্ছিল বেশ।  মাঝে মাঝেই কুকুরপ্রেমিদের দেখে সিটিয়ে যাচ্ছিলাম।
খুব উচু হাইকিং না. সব মিলিয়ে হয়ত সাড়ে  তিন মাইল হবে,২৮ তলা  হবে খুব বেশি হলে। 







হাইকিং করে টরে বেজায় খিদে পেয়ে গেল।  দোকানের লোকগুলো বোধহয় বুঝেছিল এই রে ৫টা  বক রাক্ষস এসেছে। তাই চিলি চিকেনটা  শেষ হতে আর সাপ্লাই দিতে পারেনি। কপি এনে দিলো। ভাবো! কোথায় কপি কোথায় চিলি চিকেন! তাছাড়া দ্বিতীয় দফার তন্দুরি চিকেনটাও যেন একটু কম ভালো লাগলো। যাই হোক. এই সব ছোটখাটো বিপদ উপেক্ষা করে আমরা প্লেট এর পর প্লেট শেষ করে গেলাম। শেষে যখন পেট গলা সবাই প্রতিবাদ জানালো তখন খান্ত দিয়েছিলাম।
আমার ভিন্ন ভিন্ন কুইজিন  খেয়ে দেখতে ভালো লাগে। অধিকাংশই ফ্লপ শো হয় কিন্তু তাও নতুন জিনিস কি শুধু চোখে দেখে হয়, তাছাড়া 'জিভে প্রেম করে যেই জন...' সেই উদ্দ্যেশ্যে অফিস কলিগদের সাথে এক ভিয়েতনামিজ দোকানে খেতে গেছিলাম। বেশ খারাপ।  যারা নুডলস নিয়েছিলো  কিছুই খেতে পারেনি, কোনো মশলা ছাড়া সেদ্ধ নুডলস খাওয়া প্রতিভার ব্যপার(প্যাটেল না). আমারটা অনেকটা বলা যায় কাবাব আর ভাতের খারাপ ভার্সন।
ছোটখাটো জিনিস গুলো যে কি গুরুত্বপূর্ণ হয় সেগুলো কাছে না থাকলে বোঝা যায়।ফুচকা জিনিসটা খুউব প্রিয় না হলেও যখন  এর মাঝে একদিন আমাদের বাড়িতে ফুচকা পার্টি হলো বেজায় খুশী  বোধ করেছিলাম। সেটা কতটা ফুচকা আর কতটা আড্ডার কারণে কে  জানে। 


সেদিনই কি চমত্কার একটা রামধনু উঠেছিলো।  ডাবল রামধনু, পুরো অর্ধবৃত্তাকারে।

মনে হচ্ছেনা ছোটবেলায় যেমন অর্ধবৃত্ত আঁকতাম , রং পেনসিল  দিয়ে তেমনি কেউ এঁকেছে 




কয়েকদিন আগে একজনকে আনতে এয়ারপোর্ট গেছিলাম। ফিরে যাবার দিনটা চোখ বুজে দেখে নিলাম।  আহ..

Friday, April 17, 2015

ঘোরাঘুরি ২

লেখাটা শুরু  করব ভেবেছিলাম বেশ কায়দা মেরে বসন্ত এসে গেছে ডায়লগ দিয়ে।তা ডেনভার এর আবহাওয়া আমার মত কাটখোট্টা লোকের কবিত্ব সহ্য করলো না।  গতকাল আর আজকের ছবি দুটো দেখলেই বুঝবেন।.





আমি আদতেই একজন অস্থিরমতি মানুষ।কোনো জায়গায় বেশিদিন থাকলেই কিরকম ছটপট করি।  মনে হয় কত কি দেখার বাকি রয়ে গেল।  আমার মনে আছে দেশে বিদেশে পড়ে  আমি কাবুল  যাবার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম।  খাইবার পাস পার হব প্রাণ হাতে,  আব্দুর রহমান আমার জন্যে কখনো ৬ জনের খাবার বানিয়ে তার বিখ্যাত উক্তি দেবে " আরো আছে", কখনো আমি না অনাহারে থাকলে বন্দুক জোগার করে ডাকাতি করতে যেতে চাইবে। একা থাকা শুরু  করে বুঝেছি ,আসলে ওই রকম জীবন পেতে গেলে ওই ভাবে জীবনটা উপভোগ করার কলিজা চাই।  লাভ ক্ষতির তোয়াক্কা না করে।
এই একবছরে আমার অভিজ্ঞাতার ঝুলিটা  কিছুটা হলেও বেড়েছে নিশ্চই। কত মানুষের সাহায্য পেয়েছি যা পাবার   কথা না,  তেমনি বাজেভাবে ঠকেছি বেশ কয়েকবার। ক্ষতির পরিমানটা কম না কিন্তু জানি আমি যদি আরো ৩০ বছর বাঁচি  এই ক্ষতিটা  না বরং রং বেরঙের কথা গুলো  থেকে যাবে।

মাঝে মাঝে weekend এ হাইকিং এ যাই  এখানে। দারুন।  একবার গেছিলাম flatiron  বলে একটা জায়গায়। সেই সময় জায়গাটা বরফে ঢাকা। তাতেও কিন্তু লোকজন  দমেনি। জায়গাটা কলোরাডো ইউনিভার্সিটির কাছে। দল বেধে ছেলে মেয়েরা গেছে, একজন কাছের মত বরফে পা পিছলে পড়ল আর অমনি সবাই মিলে  স্লিপ  করা সুরু করলো ইচ্ছাকৃত ভাবে। আমি আমার কলেজ এর কথা ভাবছিলাম। বুড়ো  হয়ে গেছি! আমাদের দলটা সামলে সুমলে চলল। কোনো মানে হয়! কলেজের দল তা পেলে নির্ঘাত ঠেলে ফেলতাম! যাকগে হাইকিং টা  প্রায় ট্রেকিং হয়ে গেল।  পায়ে চলা পথ গুলো বরফে জমে আছে, আছড়ে  পড়লে পাথরে জোর লাগবে। আমি শুরুতে  আর শেষে গদাম গদাম করে পরলাম। মাঝে অবশ্য আছাড় না খেয়েই হেঁটেছি।  



































লোকজন এর এনথু দেখে পাগল হয়ে যেতে হয়. শুধু  সেবারেই নয় পরে আরো যতবারই গেছি দেখেছি, বুড়ো বুড়ির দল দৌড়াচ্ছে, বাচ্ছাকে  পিঠে বেঁধে  মা বাবা,  হাতে কুকুর। বাপরে বাপ. আমাদের তো খালি হাতেই উঠতে দম বেরিয়ে গেছিল। কলোরাডো তে weeds  লিগাল, তা তার গুনেই কিনা কে জানে এক বয়স্ক ভদ্রলোক দেখি ওই কনকনে ঠান্ডায় স্যান্ডো  গেঞ্জি হাফ পান্ট পরে হেঁটে চলেছে। একটু পরে দেখি খালি গায়ে! সামিট এ পৌছে একদল ছেলে মেয়ে weeds  খাচ্ছে দেখে বুঝলাম "গাঁজার গুন" .
























নামার পর বরফের উপর ঠ্যাং  ছড়িয়ে  বসে গায়ে  মাথায় রোদ্দুর মেখে পাউরুটি কমলালেবু  খেতে খেতে দুপুরটা মনের  মধ্যে  দিব্বি  এক চিলতে জায়গা করে নিল। ছোটবেলায়  শীতের দুপুরে মাঠে মাঠে ঘোরা  কিংবা কলেজ পালিয়ে  নদীর পারে যাওয়া দুপুর  কিংবা খাঁ  খাঁ দুপুরে বাইক  চালানোর মতই।







আর এক সপ্তাহে গেছিলাম আর একটা জায়গায়।  একটু  বড় দলে।  বরফের উপর টিউবিং  করলাম। মজা মন্দ না. এক জন বা একাধিক জন মিলে  বরফের ঢাল বেয়ে  গড়িয়ে গড়িয়ে নামা টিউব এর মধ্যে বসে. ওরা ছাড়ার  সময় একটু ঘুরিয়ে দিছিল আবার । 





 ওখান  থেকেই আর  একটা জায়গায়া গেছিলাম।  লেক ছিল গরমের  সময়। লোকে নৌকোবিহার  করে গরমকালে। আজ সেটা এই রকম. কিরকম মরুভূমি মরুভূমি লাগছে না?


নিচের ছবির  লোকটা প্যারাস্লাইডিং  করছিল। আমার খুব ইচ্ছে করছিল।  কিন্তু চাওয়া  তো আর যায় না, আমাদের দেশ হলে ঠিক বলতাম "কাকা আমি একটু করি"?





কলোরাডো তে আর যাই হোক ইন্ডিয়ান রেস্তোরা বেজায় খারাপ। খালি ওই দিন মানে ডিলন  লেক থেকে ফেরার পথে এক জায়গায় খেয়েছিলাম। ভারী চমত্কার। হিমালয়ান কুইজিন নাম. আহা খেয়ে সত্যি মন প্রাণ তর হয়ে গেছিল।
ডিলন  লেক থেকেই আর একজায়গায় গিয়েছিলাম। গাছপালা ঘেরা ছোট্ট  একটা নদী তির তির করে বয়ে চলেছে , এমন শ্বাসরোধকারী  বরফ যা  কিনা অমন মস্ত হ্রদ তাও জমিয়ে দিয়েছে , এই ছোট্ট  নদীর স্রোতের মুখে হেরে গেছে। খুব মন কেমন করে এমন জায়গায় আমার। এই নদীটার জন্যে , গাছের ফাঁকে  পড়ন্ত রোদটার জন্যে, সব কিছুর জন্যই।আমি নির্ঘাত গত জন্মে গাছ ছিলাম।


সেদিন আমার অফিসে একজনের সাথে কথা হচ্ছিল। এদেশে সবই আমাদের উল্টো। ছেলেরা বিয়ের পর বাবা মার সাথে থাকে শুনে  বেচারী আঁতকে  উঠেছিল। এদের ছেলে এবং মেয়ে দুইই থাকলে মেয়েটি বাবা মার খেয়াল টেয়াল ।  মানে তাই বলে এক বাড়িতে থাকে এমন না. মেয়ের বাড়ির কাছাকাছি। এদের কনসেপ্টটা  হলো আমার জীবন আমার জীবন আমার ছেলে মেয়ের জীবন তাদের জীবন। কেউ কারোর জীবনে হস্তক্ষেপ করবে না।  যাই হোক ভদ্রমহিলা বেশ ভালো। প্রতিদিনই প্রায় দেখা হয় , গল্প হয়.
আমি নাস্তিক সে কথা সগর্বে সব সময় বলি আমি, ওকেও কোথায় কোথায় বলেছিলাম। আর ওই মহিলা হলো গোঁড়া  ক্রিষ্টান যারা কিনা ইভোল্যুশন  এ বিশ্বাসী না, বিশ্বাস করে আদম ইভ থেকেই মানুষ হয়েছে। বোঝো!
তো আমায় সে গুড ফ্রাইডে তে ইনভাইট করেছিল। কি জানি ভেবেছিল হয়ত ওদের চার্চে গেলে যুক্তি ভোঁতা হয়ে যাবে। আমি নতুন মানুষ এর সাথে মিশতে তাদের সংস্কৃতির সাথে পরিচিত ভালোবাসি। আর চার্চ  মন্দির মসজিদ কোথাও যেতেই আমার আপত্তি নেই।  গুড ফ্রাইডের দিন জ্বরে কেতরে পরে রইলাম। বেচারী সত্যি ভালো মানুষ , বলল কোনো বাপার না আমরা পরে সানডে চার্চ এ যাব আর ডিনার এর বদলে লাঞ্চ।  উনি আমায় বাড়ি থেকে পিক করে চার্চ এ নিয়ে গিয়েছিলেন, এবং পৌছে দিয়ে গেছিলেন।
চার্চ এ পৌছনোর পর বিভিন্ন মানুষের সাথে মুলাকাত কথাবার্তা মন্দ না।  তারপর কুকি কফি, নাটস এর পর্বটাও বেশ. তারপর গিটার বাজিয়ে একজন পার্থনা সুরু করলো। ছোটবেলায়  ব্রাহ্ম স্কুল  এ পড়ার  সুবাদে প্রচুর প্রার্থনা সঙ্গীত শুনেছি , বেশির ভাগ রবীন্দ্রসঙ্গীত হলেও অন্যান্য গান সুনেছি, আমার শ্যামাসঙ্গীত শুনতেও  খুব ভালো লাগে। তাই এই প্রার্থনা সঙ্গীত মন্দ লাগলো না। 

 কিন্তু এর পরের পর্বটাই মুশকিল। বাইবেল থেকে পড়া শুরু হলো. জবাব গুলো মুখে আসছিল কিন্তু চুপ করে থাকাই দস্তুর। চার্চের মধ্যে  টাওয়ার নেই, আমি বই পরা শুরু করলাম মোবাইল এ।  ব্যাস আর কি বইয়ের মধ্যে  ঢুকে গেলে নিশ্চিন্ত।  অবশেষে তাদের বক্তব্য শেষ হলো।  আবার বিভিন্ন লোকেদের সাথে আলাপ পর্ব শুরু হলো।  ওদের জিভে আমার নাম শক্ত হলেও আমি কেটে ছেঁটে  আমার নাম বিকৃত করা ভালবাসিনা। ওদের প্রত্যেককে আমার নাম শেষ অব্দি উচ্চারণ করেছিল। এটা কিন্তু এদের ভালো মানতেই হবে, পারেনা তা স্বীকার করে এবং পারার চেষ্টা করে.
আমার দেশ নিয়ে কোনো কথা উঠলে, সে ভয়ংকর ট্রাফিক হোক কি দারিদ্র সীমার নিচে বাস করা মানুষের সংখ্যা হোক , আমি এমন ভাবে জবাব দেবার চেষ্টা করি যাতে 'হ্যা কথাটা ঠিক তবে কিনা , গরিব তো হবেই লোক সংখ্যাটা বেশি, ট্রাফিক তো ডাউনটাউন এও বেশি হয় তাই না ' এই জাতীয় কথা বলি।  ঠিক ভুল জানিনা আমার দেশকে লোকে ওরে বাবা কি কষ্টে মানুষ বাঁচে চোখে দেখবে আমি সেরকম ভাবতে ভালবাসিনা। আমার দেশের অনেক অনেক ভুল ভ্রান্তি  খারাপ আছে , তা বলে অন্য কেউ সেটা বলবে আমার ভালো লাগেনা। তো কথা বলতে বলতে এক মহিলা বললেন আর এক ভদ্রলোককে যে  তিনি নাকি এক ভারতীয় বাচ্চার দায়িত্ব নিয়েছেন। অবশ্য  উনি ভারতে যাননি কখনো।
লাঞ্চ এ গিয়ে আমি একটা স্যামন নিলাম আর আমার কলিগ, tammie নিল ৩ কোর্স একটা মিল , আর ওর  হাসব্যান্ড নিলো  একটা সালাদ।খেতে বসেও ভগবান আছে নেই নিয়ে তর্ক হলো. যারা ডারউইন এর তত্ত্বের বিশ্বাস করে না, আদম ইভ  থেকে মানুষ এসেছে, বিশ্বাস করে, অলৌকিক ৭দিনে এ মহা বিশ্ব তৈরি হয়েছে বলে তাদের সাথে তর্ক করার চেয়ে অবশ্যই  আমি গ্রিলড বিষ্ণু অবতারের শরনাপন্ন  হব এটাই স্বাভাবিক। তাও চালিয়ে গেছি ! এদিক  সেদিক কথা বলতে বলতে ভদ্রলোক বলল আমি তুমি পড়াশোনা করতে পেরেছ, তোমার কাছে টাকা আছে ভারতীয় হিসেবে তুমি লাকী।  কারণ আমি শুনেছি সবাই এরকম সুযোগ পায় না. কথাটা সত্যি কিন্তু তা আমি মানব কেন. আমি বললাম তা না তোমাদের দেশেও তো হোমেলেস  মানুষ আছে, এত সংখ্যক মনোরোগী ঘুরে বেরাছে যারা কিনা যে কোনো সময় বন্দুক দিয়ে তোমায় মারতে পারে সেরকমই আমাদের দেশেও কিছু সমস্যা আছে তবে এমন না যে  বেশির ভাগ লোক কোনো সুযোগ পায় না, অনেকেই শূন্য  থেকে শুরু করে মিলীয়নিয়ার হয়েছে। আমি জিগ্গেস করলাম তোমাদের এই যে  বাবা মাকে একা ফেলে রাখো এদের মধ্যে কেউ মারা গেলে আর একজন তো ভয়ানক একা হয়ে যায়, বার হয়ে যায়, তাকে তবু তোমরা একসাথে রাখো না? তো সে বলল হেন এটা সমস্যা তো বটেই, তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ওরা থাকতে চায় না, এই যেমন tammie  এর বাবা মা অসুস্থ , কিন্তু ওরা আমাদের সাথে থাকতে চান না. তবে সত্যি বলতে কি অনেকেই আজকাল রাখে বাবা মাকে নিজেদের সাথে, ফলে তাদের ছেলে মেয়েরাও সেটা দেখে বড় হয় আর শেখে।
আড্ডা খাব দাবার ফাঁকে  কোনো ছবি তোলা হয়নি। বুঝতেও পারছেন কিসব জটিল  জিনিসপত্র চল্ছিলো ,আশা করি ক্ষমা ঘেন্না করে শুধু লেখায় পরে নেবেন এবারের মত।