Friday, March 4, 2016

ঘোরাঘুরি - হার্শী(2)

জীবন অনেকটা বাইক চালানোর মতো। হু হা স্পিড তুলে যাচ্ছ , আচমকা গর্ত , লাও , হয় ছিটকে পড়লে নয় কোনরকমে বেঁচে গেলে।হাঁ সাবধানী বাইক ওলা কি নেই আর , প্রচুর। অচেনা রাস্তায় ৪০ এর বেশি স্পিড তুলবেই না। আমি ওই প্রথম শ্রেণীতে পড়ি। বাইক  থেকে ছিটকে পড়ি , চোট্ পাই আবার অজানা রাস্তায় গাড়ি ছোটাই। অজানা রাস্তা আমায় গাছের ছায়া , নদীর জল দেয়, এবড়ো খেবড়ো রাস্তাও দেয়না এমন নয়। এত কথা বললাম কারণ হার্শী ঘোরার বাকিটুকু বলতে বসেছি কিনা। 
যাই হোক , হার্শীতে পৌঁছে , অনেক কেক , মিষ্টি (বাড়ির তৈরী বেকড সন্দেশ) আরো অনেককিছু সাঁটিয়ে দেখি অর্ণব দা , আর অনন্যাদি দুজনেই আমার জন্যে হরেক রকম গিফট এনে রেখেছে। আহা এই বয়েসেও বড়দিনের গিফট পেতে কি যে ভালো লাগে তা কি বলব। তা এমন দাদা দিদি কি আমার পাওয়ার কথা ছিলো কিন্তু পেয়েছি তো :)।  
বেকড সন্দেশ 

হু হু বাওয়া , ছবি তুলে রেখেছি,  এক আধটাও সরানোর চান্স নেই 

আমরা দুটি ভাই যিশুর গান গাই 


 দেহে মনে বল জোগার করে বেরোনো হলো, অরুনাংশু দার বন্ধুকে নিয়ে আসা হলো। তারপর বাকি কটা  দিন যা আড্ডা হলো তা তো আর না বললেও চলে। এর মাঝে একদিন নর্থ আর সাউথ এর যে সিভিল ওয়ার  হয়েছিলো , সেই গেটিসবার্গ যাওয়া হলো। একটা জিনিস দেখে ভালো লাগে , বিজয়ী এবং বিজিত দুইয়ের জন্যই স্বারক রয়েছে।কেমন উত্তর দক্ষিন ঝগড়া করার পরেও মিলেমিশে আছে, আমাদের ভারত পাকিস্থান বাংলাদেশ এর বর্ডার মুছে যদি এমন একটা যুক্তরাষ্ট্র হত বেশ হত কিন্তু। তা হওয়ার না বোধহয়।  পারস্পরিক কারনহীন ঘৃনা কি আর যাওয়ার। 



গেটিসবার্গ যাওয়ার পথেই এদেশের আদি অধিবাসী আর বর্তমান অধিবাসী দের লড়াই এর গল্পটা জানা হলো। আগে ভাসা ভাসা  জানতাম। ব্রিটিশ উপনিবেশের একদল দন্ডপ্রাপ্ত আসামী জাহাজে করে ছেড়ে যাওয়া হয়।  ঠান্ডায় খিদেতে তাদের নরখাদক করে তুললেও শেষ রক্ষা হয়নি। সেই জাহাজের কেউই বাঁচেনি। তারপর আরো দু জাহাজ লোক আসে, আরো বেশ কিছুদিন পর. তার কয়েকজন টিকে যায়।তারপর আরো এবং তারাই ক্রমে শক্তিশালী হয়ে এদেশে আদি অধিবাসীদের মেরে তারায় , লুকিয়ে পরতে বাধ্য করে।  
গেটিসবার্গের যে জায়গায় লড়াই এ  উত্তরের লোক জিতে গেছিলো ( দক্ষিন নাকি একটা সময় অবদি জিতছিলো তারপর তাদের সেনাপতি ভাবলো আরে এত মেরেই এনেছি প্রায়, চলো সোজাসুজি চার্জ করা যাক, এদিকে গরুগুলো বোঝেনি পাহাড়ের নিচে আছে ওরা , ওই ভাবে হামলা করা আর আত্যহত্যা করা একই ব্যাপার হবে) সেই জায়গায় একটা একটা স্থাপত্য আছে যেটা কেমন দূর্গ মার্কা দেখতে। তবে উপত্যকাটা সত্যি সুন্দর।ছোটো টিলা , ঢেউ খেলানো মাঠ , গাছের সারি সব মিলিয়ে চমত্কার ল্যান্ডস্কেপ।


আসলে এই হার্শী গ্রামটা বেশ সুন্দর।ছিমছাম ছোট্ট। দূরে পাহাড় আছে, ছোটো নদী আছে , আঙুরের খেত আছে। ঘোড়ার আস্তাবল আছে আবার চকোলেট  ফ্যাক্টরি এবং তার কারণে গড়ে ওঠা এই জনপদ টাতে রেসের মাঠ ও আছে।
হার্শী চকলেট ফ্যাক্টরি এর লোকজন ব্যবসা ভালো বোঝে তাই , ওখানে গিয়ে কি করে চকলেট তৈরি হয়ে তার ডেমো দেখা যায়। এমনকি একখান করে চকলেট খেতেও দেয়. কিন্তু যেখান দিয়ে বেরোয় লোকে ওই ট্যুর শেষ করে সেখানে যথারীতি গুচ্ছ ম্যাগনেট টিশার্ট ইত্যাদি হরেক মাল, যার দাম মোটেও ৫টাকা নয়। 
বোঝো!




আঙুরের ক্ষেত আর ঘোড়ার চারণভূমি পাশাপাশি। আমি আগে কখনও আঙুর ক্ষেত ও দেখিনি, ইচ্ছে ছিলো আঙুর  ছিঁড়ে মুখে ফেলার কিন্তু , ইয়ে একা কিংবা আমার বাঁদর বন্ধুকুলের সাথে যাইনি।  তাই সংযত বাচ্চা হয়ে রইলাম।

আঙুর ক্ষেত 




ইন্ডিয়ান ক্রেভের্নস বলে একটা গুহা আছে যেখানে স্ট্যালাগটাইট আর স্ট্যালাগমাইট দেখা যায়. এক ভদ্রলোক নাকি এখানে একা একা বিশ বছর কাটিয়েছিলেন।বোঝো! ওই প্রায়ন্ধকার গুহায় এদ্দিন কাটানো! কার সুখ যে কিসে থাকে কেই বা বলতে পারে।

এটা ভুট্টার মত দেখতে না?



সেই আমিশ দের গপ্পো বলেছিলাম না কোন একটা লেখায় তারা 

চাকা ব্যবহার করে বলে সভ্য সমাজের সাথে মিশবো না 


 ফেরার সময় গ্রেহাউন্ড এর বাস ধরে ফিরছিলাম। রাতের বেলা ট্রাভেল করা একটা অন্য অনুভূতি। দুপাশের গাছ গুলো ছায়া ছায়া হয়ে থাকে। দূরে মিটমিটে আলো।আকাশে আজ মেঘ বলে পুরপুরি অন্ধকার ননা। কেমন আলোর একটা আভা এখনো। পেন্সিলভেনিয়া থেকে ওয়াশিংটনডিসি এর রাস্তায় খুব বেশি শহর পরে না। একটানা গাড়ির স্রোত, ভিডিও গেমস এর মতো।
একটু একটু খিদে খিদে পাচ্ছিলো, পকেট হাতরে দেখি, ক্রিস্পি মজুদ। অনন্যাদি, রাস্তার কথাও ভোলেনি।শরতচন্দ্রকে "সেন্টিমেন্টাল " টাইপ বলে যতই খোরাক করি, সেই কবে লিখে গেছিলো " এদেশের পথে ঘাটে দিদিরা রয়েছে", আজও সমান সত্যি,শুধু দেশে না বিদেশেও।

Tuesday, February 9, 2016

ব্যাচেলার আর বাচ্ছা

আমাদের মতো ব্যাচেলার  দের খুব যন্ত্রণা। বিবাহিত এবং ছোটো বাচ্ছা হয়েছে এমন বন্ধু বান্ধব দের সংখ্যা কম না। তাদের ধারনা ছুটির দিন,  অফিস দিন যেকোনো সময়েই তাদের সময়ে তাদের বাচ্ছাদের বিপুল বুদ্ধি (যা কেবল ও কেবলমাত্র তাদের ছেলে/মেয়েদেরি আছে) দেখতে আমি খুবই উতসুক, কারন আমি ব্যাচেলার আর আমার অফুরন্ত  সময়। আর মশাই বিয়ে শাদি করে ছেলে পুলে হলে লকে এমন ভোঁতা হয়ে যায় জানা ছিলো না।  ফেসবুকের দৌলতে তারা কবে হাঁটছে, লাথি মারছে সব জেনে ধন্য হচ্ছি তাতেই শান্তি নেই, সেদিন রোববার,  সুন্দর  রোদ উঠেছে।  আমি সারা দিন ল্যাদ খাওয়ার ইচ্ছে নিয়ে ১২টার সময় প্রথম চায়ে চুমুক দিচ্ছি। এক সহকর্মী  র ফোন,  দুপুরে খেতে ডাকছে। শুনতে সাধু প্রস্তাব। কিন্তু এর একটা ছোট ছেলে আছে, সুতরাং সেই বিস্ময় বালকের কান্ড কারখানা আমায় শুনতে হবে ও পরম পরিতোষে আহা অবিশ্বাস্য বলতে হবে। ইয়ে হবে না,  হয়েছিল। আমার সাধের রবিবার দুপুর স্রেফ ইন দ্য ভোগ অফ বাচ্ছা হয়েছিলো :(

Friday, January 29, 2016

নানারকম 7

বেড়ানোর গল্পটা না শেষ করে অন্য বকবক করছি বলে মাফ চাইলাম আগেই।  কিন্তু কি করবো , আজকে যে রোদ ঝলমলে সকালে হাটতে পেয়েছি। বেশ কয়েকদিন পরে আজ টেম্পারেচার ০ এর উপরে। আজ ইচ্ছে করেই হেঁটে এলাম। এখানকার রাস্তায় এমনিতেই লোকজন কম , তে শীতকালে এরই কম।  তাই বরফ চূড়ো পাহাড়টা পাশে নিয়ে,হাত পা নেড়ে গান গাইতে গাইতে  হাঁটতে দিব্বি  লাগছিল।  মাথার উপর দেখি একঝাঁক বোকা হাঁস ক্যাও ম্যাও লাগিয়েছে। বোকা না বলে উপায় কি , জানুয়ারি শেষ হতে চললো এই সময় ওরা এখানে কি করছে , ওদের তো এখন আমাদের দেশের ওদিকে থাকার কথা! নির্ঘাত জিপিএস হারিয়ে ফেলেছে, আর এখন চেঁচামেচি করছে। 

দেশে বইমেলা শুরু হয়ে গেছে।  বইমেলাটা আমার মত কিছু বই পাগলের কাছে দুর্গাপূজোর মত। বই দেখব ,নাড়বো ঘাঁটবো , হয়ত বেশি কিনিনা , কিন্তু লিস্ট করে রাখব। কলেজ স্ট্রিট থেকে কিনব বলে। আহা। বইমেলা  হলো এমন এক জায়গা যেখানে একা একাও যাওয়া যায়, দোকাও যাওয়া যায় ,দল মিলেও যাওয়া যায়।  প্রতিটা জায়গার চরিত্র বদলে বদলে যায় কার সাথে যাওয়া হচ্ছে তার উপর। যেমন গঙ্গার পারে একা বসে থাকতে যেমন লাগবে , পাশে প্রেমিক/প্রেমিকা থাকলে অন্যরকম , আর বন্ধুরা থাকলে অন্যরকম। কিন্তু বইমেলার চরিত্র বদলায় না। এত বই এত বই , কি কিনবো কি কিনবনা সেটাই সব না। 

আজকে আবার মেঘলা দিন।  বাড়ি থেকে বেড়িয়েই দেখি পাইন গাছের মধ্যে  দিয়ে শন শন  করে হাওয়া দিছে।  শব্দে মনে হচ্ছে সমুদ্দুরের পাড়ে দাঁড়িয়ে আছি। আজ আর নীল পাহাড়টা পাশে নিয়ে হাঁটা যাবে না, গাড়িতে যেতে হবে। 
কয়েকদিন আগে একটা স্টেট পার্ক এ গেছিলাম। উপত্যকার মতো।  পুরো মাঠ জুড়ে বরফ চিক চিক করছে।  অনেকদিন আগের মরে যাওয়া এক ড্যাম এক পাশে পরে আছে।  বরফ এর নদীর মতো লাগছে দেখতে।  কয়েকটা গাছ যারা পাতা জড়িয়ে ফেলে না তারা বসন্তের ভরসা দিচ্ছে। আর যাদের পাতা নেই তারা অদ্ভূত জীবনীশক্তি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে বসন্তকালের জন্য। 



মৃত নদীও দাগ রেখে যায় 



কতদিন হয়ে গেলো বাড়ির বাইরে। ভয় করছে , চেনা মুখগুলো বদলে গেছে নাকি কে জানে। তবু রিস্ক তো নিতেই হবে, ফিরতেও হবে। কোলকাতা নিয়ে এই পোস্টটা  দেখলাম সেদিন ফেসবুকএ , রইলো 


Thursday, January 14, 2016

ঘোরাঘুরি-হার্শী(1)

শীত পড়ছেনা শীত পড়ছেনা করে রোজী আক্ষেপ শুনি বাড়ি থেকে।  শীত কালের যে কি সুখ কি জানি বাপু।  হাজার খানা সোয়েটার কম্বল জড়িয়ে বসে থাকা। ব্রাশ করা থেকে শুরু করে বাড়ি ফিরে হাত মুখ ধোয়া তক , হাড় দাঁত সব্বাইকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলা! শীতকাতুরে যারা প্রেম করে তাদের কি সমস্যাতাই না হয়! প্রেমিকার সামনে মাফলার জড়িয়ে দাড়ানোর মতো বুকের পাটা আর কজনেরই বা হয়।  আহারে তারা নিগ্ঘাত বাড়ি ফিরে হেঁচে কেশে একাকার হয়।  এছাড়া বাইক  চালানোর সময় হেলমেট খুলে কেত মারার উপায় নেই , বারান্দায় দাঁড়িয়ে ফুকবে সে যো নেই। এর চেয়ে মশাই গরম কাল ঢের ভালো।  আহা ফুরফুরে হওয়ায় উড়তে উড়তে বাইক চালানো , ইচ্ছে হলেই জল খেতে পারা( দাঁত  থেকেহাড় ঠান্ডা হওয়ার ভয় না করে) ইত্যাদি ইত্যাদি।  তবে হাঁ  শীতকালের মরশুটির কচুরি , নলেনগুড় দিয়ে পিঠে , ইত্যাদি সুখাদ্যের সমাহার হয়, বইমেলা হয়।   তাই শীতকালটা সওয়া  যায় কষ্টমষ্ট  করে। তবে এসবই  দেশের কথা।  এখানে তো শীতকাল মানে ঘরবন্দি। ঘুরতে যাওয়া যাবে না , হাঁটতে যাওয়া যাবে না , দূর দূর।

তাই অনন্যাদি যখন ডাকলেন ওনার বাড়ি ঘুরে যাবার জন্য আমি তো শুধু খাড়া না রেডি স্টেডি গো  বলে ছুটবার জন্য প্রস্তুত। ফ্রন্টিয়ার ডিলটাও দিচ্ছিলো  ভালোই  মোটামুটি। এই সুত্রে একটা কথা বলে রাখা ভালো , এই অনন্যাদি আর অরুনাংশুদা , এনারা দুজনেই অসম্ভব ভালো দুজন মানুষ , আগের বার এনাদের ওখানে গিয়েছিলাম গল্পটা লেখা হয়নি। আমার ব্লগটা হলো দুধ ভাত টাইপ ব্লগ , নির্দিষ্ট পাঠক নেই , কেউ আদৌ পরে কিনা কে জানে তাই না লিখলেও কোনো ক্ষতিবৃদ্ধি হয়নি। তাই আমার মতো আলসে মানুষের  লেখার কন্টিনিউইটি  বজায় থাকে না। প্রায় দুবছর হতে চললো আমি দেশ ছাড়া। তবে  ২০১৫ সালে আমি যা পেয়েছি তা অভাবনীয়। তারমধ্যে এই দুজন মানুষের সাথে পরিচিত হওয়া একটা ঘটনা তো বটেই। সব মানুষ তো সমান হয়না, কেউ গোলাপফুল ফোটায় কেউ খালি কাঁটা গাছ হয়ে থাকে। আমি মানুষ হিসেবে ওই কাঁটা গাছ শ্রেনীর।  লতানে তাও আবার।  তা আমার মতো স্বল্প বুদ্ধি , স্বল্প সাহসওলা কুকড়ে  মানুষগুলো যে করে কর্মে খাচ্ছে, তার কারণ ওই অনন্যাদিদের মতো মানুষরা  আছেন বলে।  একটু বেশি ব্যক্তিগত কথাবার্তা হয়ে যাচ্ছে বোধহয় , বোরিং , কিন্তু আমার ঘুরতে যাওয়ার গল্পও তো ব্যক্তিগতই।

তো যাক যা বলছিলাম , ফ্রন্টিয়ার এর ক্যারি অন লাগেজেও টাকা লাগে।  খালি একটা ব্যাকপ্যাক নিতে দেয়। তা আমার মতো ভবঘুরে মানুষের তাতে হয়ে যায়।  একটু চাপাচাপি করতে হয়নি তা নয় তবে সেটা ম্যানাজ করা যায়।
কোথাও যাওয়ার নাম শুনলে মনটা এমন হয়ে যায় অফিসের কাজকম্ম মোটামুটি ডকে উঠে যায়। তার জন্য আমায় ফাঁকিবাজ বললে কি আর করা।  ২৪ তারিখ ওই একটা ব্যাকপ্যাকে হয়ে যাবার যে কেতটা নিলাম একটু আগে , তার ফল টের পেলাম। আমাদের একটা ইংরাজি গপ্পো টাইপ ছিলো।প্যাকিং নাম ছিলো তার। একদম সেই কেস! যাই হোক ২৫তারিখ ভোর ভোর উঠে এক কাপ কফি বানাতে বানাতে আমার বন্ধুকে কল করলাম , তা সে উঠে পরেছিল ,যাই হোক ধরাচুড়ো পরে রওনা হলাম।  সিকিউরিটি লাইন এ কত  কিসিমের মানুষ দেখা যায়।  একজনকে দেখি কোট প্যান্ট পরে পায়ে চপ্পল , কেউ কেউ এই ঠান্ডাতেও হাফ প্যান্টুলুন পরা! ডেনভার এয়ারপোর্ট এ যতবার আসি টার্মিনাল টু  টার্মিনাল সাবওয়ে ট্রেনটা খুব উপভোগ করি। ট্রেনএর একদম সামনের কামরায় উঠলে সামনেটা বোঝা যায় , সাবওয়ে সারফেস বা টেম্পল রান এর জগতে ঢুকে পরেছি মনে হয় আর তারপরেই টার্মিনাল চলে আসে। সিকউরিটি পেরিয়ে এক কাপ কফি নিয়ে বসা গেলো জুত করে।
বাইরে তখন আলো ফুটছে সবে। পাশের আইলে ছোট্ট একটা কুকুর সহযাত্রী। বড়দিন বলে পাইলট থেকে এয়ার হোস্টেস মাথায় লাল টুপি। দিনটা বড় করেই শুরু হচ্ছ।কফির কাপে ছোট্ট চুমুক, আর ঘর থেকে বেড়িয়ে পরার আনন্দ।



আমার বাস ছিলো ওয়াশিংটন ডিসির ইউনিয়ন স্টেশন থেকে।  হ্যারিসবার্গ অব্দি।একটু চিন্তা ছিল।  ফ্লাইট দেরী করলেই তো চিত্তির। উবের বা লিফট নেব ভেবেছিলাম। তাও , অনেকসময়েই ওরা দেরী করে দেয় খুব. যাই হোক সময়ের অনেক আগেই পৌঁছে গেলাম। হাতে সময় ছিল তাই ইউনিয়ন স্টেশনটা  ঘুরে।  বেশ বড় টার্মিনাস। Amtrak এর ট্রেন ছাড়ে।  নিউয়র্ক , বস্টন , পেনসিলভেনিয়া নানান জায়গার যাবার বাস আছে। খিদে পেয়েছিল বেশ , খাবার দোকানও ছিল। (অনেকগুলো অবশ্য ২৫  বন্ধ ছিলো )  , আমি একটা ষ্টারবাকস দেখে এক কাপ কফি নিয়ে ঘুরতে ঘুরতে দেখি লাইব্রেরী !!   আর সেখানে থেকে তুমি খুশি মতো বই নিয়ে নাও। আর তোমার কাছে এক্স্ট্রা  বই থাকলে দিয়ে দাও।  ভাবা যায়! এ জিনিস দেখে নড়ার সাধ্য রইলো না, খিদে বাবাজীবন সারা রাস্তা তার শোধ নিয়েছিল অবশ্য় ।


ওয়াশিংটন ডিসির সাথে আমার বৃষ্টির একটা সম্পর্ক আছে। আগেরবার এসেছিলাম যখন তখন এরকম আকাশ ভাংগা বৃষ্টি নেমেছিল। সেই বৃষ্টি ভিজে শহর দেখার গল্প করেছি অন্যজায়গায় । এবারে বৃষ্টি বাল্টিমোর থেকে শুরু হয়েছে। ওয়াইপার পাগলের মতো মাথা নেড়ে চলেছে, ভিজতে পারছিনা বটে তবে ভেজা হাইওয়ে শচিন কর্তা, সুমন , রফি , হেমন্ত এর গান (বাসে wifi আর প্লাগ পয়েন্ট দুইই ছিলো ) সব মিলিয়ে অসাধারণ লাগছিল। 
দুবার হল্ট দিয়ে শেষ মেষ বাস পৌঁছলো যখন আমি তখন কাহিল প্রায়। (চলবে)


Monday, January 4, 2016

ঘোরাঘুরি -সী -ওয়ার্ল্ড

--এই লেখাটা ম্যাজিক ল্যাম্প ওয়েবজিন বেরিয়েছিল। 

ছোটবেলায় দেশ বিদেশের এডভেঞ্চার পড়তে পড়তে কিংবা নতুন দেশের ছবি গল্প শুনতে শুনতে সবারই মোটামুটি আমাদের ইচ্ছে করে কবে যাব ওই সব জায়গা গুলো। না ফ্রান্সিস, বিমল কুমারের মত এডভেঞ্চার আমার হয়নি। তবে নতুন ধরনের অভিজ্ঞতা হয়েছে কিছু।আমার প্রোজেক্ট  লোকেশন  ছিলো ক্যালিফর্নিয়া যখন এদেশে আসি। ভারী চমত্কার জায়গা ক্যালিফর্নিয়া। কালিফোর্নিয়ার আমি যেখানে উঠেছিলাম সেই জায়গাটার নাম অরেঞ্জ কাউন্টি। ওখান থেকে সী  বিচ গুলো কাছাকাছি। এছাড়া  ডিজনিল্যান্ড ইউনিভার্সাল ষ্টুডিও তো আছেই। এছাড়া আছে স্যান ডিয়াগো , প্যাসিফিক ওশান এর পাশের শহর। স্যান দিয়াগোতে  সি ওয়ার্ল্ডটা  দেখার ইচ্ছে বহুদিন ধরেই। সি ওয়ার্ল্ডহলো একটা এনিম্যাল থেমে পার্ক। মানেবিভিন্য মজাদার রাইড এর পাশাপাশি , সামুদ্রিক  প্রানীদের  নিয়ে তৈরি পার্ক। তাদের নিয়ে শো হয়. এমনি ঘুরে দেখা যায়। আমেরিকার  বেশিরভাগ প্রদেশে গাড়ি হলো অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বস্তু।  সৌভাগ্যক্রমে আমি যেখানে ছিলাম সেখানে গাড়ি ছাড়াও চলাচল সম্ভব। মানে বাস ট্রেন আছে আর কি। 
সঙ্গী নেই কেউ যাবার।তাই একা একাই একদিন বেরিয়েই পড়লাম। ও  হাঁ এইখানে বলে রাখি  আমার দেশে কেনা স্মার্টফোন  বিদেশে এসে আনস্মার্ট হয়ে গেছে। যে ফোনটা ব্যবহার করি যার  জিপিএস নেই। আমাদের দেশে জিপিএস ছাড়া অজানা জায়গায় যাওয়া কোনো বাপারই না।  কেউ না কেউ দেখিয়েই দেবে।  কিন্তু এদেশের লোকজন এতটাই টেকনোলজি নির্ভর সে আশা বৃথা। যেদিন যাব ঠিক করেছিলাম তার আগের দিন সন্ধ্যেবেলা গুগল করে পুরো বাপারটা নোট  করে নিয়েছি। দুটো বাস বদলাতে হবে, তারপর ট্রেন, তারপর বাস।  দেশে এই বাপারটা এতটাই সহজ যে  কোনো চাপ নিতে হয়না, কিন্তু এদেশে  যেখানে  সেখানে রাস্তাঘাটে "গুগল ম্যাপ" লোকজন থাকবেনা।


 .
পকেটে বিস্কুট ব্যাগে টুপি আর পাসপোর্ট, আর গায়ে জ্যাকেট চাপিয়ে বেড়িয়ে পড়লাম। বাসস্ট্যান্ডে 10 মিনিট দাঁড়িয়ে থাকার পর খেয়াল হলো আরে এতক্ষণে তো বাস চলে আসার কথা. গুগল এ যে সময়টা দেওয়া থাকে বাস এর , সেই সময়েই বাস আসার কথা। ভালো করে বোর্ডটা খেয়াল করে দেখি যাহ বাবা, রোববার বাস বন্ধ থাকে! বোঝো কান্ড। এদিকে 8.10 এ ট্রেন। এখন উপায়! নতুন এসেছি, বুদ্ধি সুদ্ধি আমার একটু দেরিতে পাকে। উবার হবেনা,স্মার্টফোন নেই , উন্স্মার্ট আমার কাছে ক্যাব এর নম্বর নেই। ট্রেনের টিকেট কাটা নেই, তাই ফিরে আসাই যায় তবে যাব বলে বেরিয়ে ফিরে আসতে আমার খুব বাজে লাগে। দৌড়ে বাড়ি ফিরে রুমমেটের ঘুম ভাঙ্গিয়ে তার থেকে ইয়েলো ক্যাব এর ফোন নম্বর নিয়ে ফোন করলাম। ক্যাব এর ড্রাইভার শ্রীলঙ্কার লোক। দীর্ঘদিন আছেন। একজন বাঙালি আর একজন বার্মিজ এর সাথে থাকেন। বক বক করতে করতে ট্রেন এর সময় হয়ে যাচ্ছে কিনা আর চিন্তা করার অবকাশ পাইনি। নামার সময় চমক! দেখি কিছু একটা টিকেট আমায় দিতে চাইছে। জানা গেল, তার কাছে একটা গ্রীনলাইন ট্রেনের টিকেট আছে, এবং সেটাই সে আমায় দিচ্ছে ।এমনি এমনই। আর উনি এটা দিচ্ছেন আমি টিপস দেবার আগেই। (টিপস দেওয়াটা এদেশের বাধ্যতামূলক রেওয়াজ, না দিয়ে চলে যাওয়াটা চূড়ান্ত অসভ্যতা) ,. যদিও সেই টিকেট আমার কাজে লাগার নয়, কারণ আমি যাব Amtrak ট্রেনে। কিন্তু সেটা কথা না, এমন বিদেশ বিভুঁইে এমন অপ্রত্যাশিত ভালবাসা পেলে মনটা ভরে ওঠে। দেশের গন্ডি তখন উপমহাদেশ হয়ে গেছে।
ট্রেন দেখে যথারীতি ধাক্কা খেয়ে গেলাম। দোতলা ট্রেন। ভিতরটা ভারী চমত্কার। গদিমোড়া চেয়ার, কিছু সিট এর সামনে টেবিল আছে কফি খেতে খেতে কাচ ঢাকা জানলা দিয়ে বাইরে দিকে তাকিয়ে থাকতে পারো। তোমার খুশি। Amtrak এর এই ট্রেনটা প্যাসিফিক ওশান এর পাশ দিয়ে যায়। জানলা দিয়ে তাকালেই ঝকঝকে নিল আকাশ , ঘন নীল্ সমুদ্র। একতলাটা ডাইনিং আর টয়লেট। তোমরা আমায় আদেখলে ভাবছ হয়ত। কিন্তু আমার চোখে যে তখন আমাদের লোকাল ট্রেন ভেসে উঠেছে, ইশশ আমরাও যদি এমন পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতাম। যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা না ফেললেই তো এমন ঝকঝকে ট্রেন হয়ে যেতো। চেকারকে বললাম যেন সান ডিয়েগো এলে আমায় বলে দেয় আমি যদি এনাউন্সমেন্ট মিস করি বা ঘুমিয়ে পরি। বলে দিয়েছিল। এদেশের মানুষজন সম্পর্কে অনেকেরই শীতল ধারণা আছে, কিন্তু সে ধারণা ঠিক না তার উদাহরণ বহুবার পেয়েছি।





সী  ওয়ার্ল্ডে পৌঁছে মেতে যেতে সময় লাগেনা। শামুর শো দিয়ে শুরু। শামু  হলো তিমির নাম, তার নাচ দেখে মনটা একেবারে তাজা হয়ে গেল। এমনকি আমার মত খুঁতখুঁতে  লোককেও, ভিজিয়ে দিল বলে একটুও রাগ হোলোনা।






 ডলফিন এর মত বুদ্ধিমান প্রাণীর কসরত দেখতে দেখতে মনটা আরো খুশি হয়ে গেল।


 পেঙ্গুইনের নাচানাচি,সী-লায়ন  এর ঝাঁপাঝাপি,মাছদের খেলা এইসব নানান জিনিসের মধ্যে দিয়ে দিনটা কখন ফুরিয়ে গেল টেরই পেলাম না। 

\


 শেষে ওই ক্ষুদে ক্ষুদে মাছগুলো, আমাদের মৌরলা মাছের মত দেখতে ওদের সাথে খেলতে দিয়ে দেরী হয়ে গেল। জলের মধ্যে হাত ডুবিয়ে রাখলে ওরা এসে হাতের মধ্যে
মৃত কোষ খেয়ে যায়, বেশ মজা লাগে। বাপারটা আমি কাটিয়েই দিছিলাম, জানতামনা আগে, এক মার্কিন ভদ্রমহিলা নিজের থেকেই বললেন আমি যেন ওটা অবশ্যই করি, যদি করে না থাকি।ভাগ্গিস বলেছিলেন।হটাৎ খেয়াল হতে দেখি স্টেশন যাবার বাস আমি মিস করেছি এবং পরের বাস আধঘন্টা পরে, তারমানে ৬.৪৫ এর ট্রেন আমি মিস করেছি!

স্টেশনে এসে Amtrak এর কাস্টমার কেয়ারে খোঁজ নিয়ে জানলাম পরের ট্রেন 9.11 তে। এবং সেটাই লাস্ট ট্রেন।বাজছে সবে সাতটা কুড়ি। দুঘন্টা এই স্টেশনটাতে বসে থাকতে হবে!


স্টেশনটা আমাদের দেশের অজ পাড়াগাঁয়ের স্টেশন এর মতোই প্রায়। আসে পাশে একটাও দোকান নেই যে কিছু কিনে খাবো।বিস্কুট সেই কখন শেষ হয়ে গেছে, আর ঘোরাঘুরির নেশায় সারাদিন কিছু খাওয়াও হয়নি। শেড আছে কিন্তু যা হাওয়া দিচ্ছে, তাতে শেড থাকা না থাকা সমান। তারমধ্যে শার্টের দুটো হাতায় ভেজা, মাছগুলোর সাথে ছ্যাবলামো করার সময়। আমি এমনিতেই শীতকাতুরে, কি ঠান্ডা হাওয়া বাপরে বাপ, হাড় অব্দি কেপে যাচ্ছে। স্টেশনে লোক নেই বিশেষ।না একজন আছে দেখছি। স্টেশনে এর শেষ প্রান্তে একজন বসে বসে বিয়ার খাচ্ছে আর ফোনে কথা বলছে। ভালো লোক না মন্দ লোক কে জানে! আমার থেকেই খোঁজ নিলো ট্রেন এর, LA যাবে। এই ট্রেন টাই , অরেঞ্জ কাউন্টি মানে আমি যেখানে থাকি সেখান হয়ে LA যাবে। অন্ধকার স্টেশন, বাতাস বইছে হুহু করে, একটাই অজানা লোক, আশেপাশে দোকানপাট নেই, সব মিলিয়ে গা ছমছমে অবস্থা। এ যদি গুন্ডা বদমাশ জাতীয় লোক হয় হয়ে গেলো আজ আমার।উফফ , না মনটা অন্যদিকে ঘোরাই , দুঘন্টা এরকম খালি পেটে চিন্তা করে করে কাটানো যায় নাকি। থ্রিলার পড়তে গেলেও গরম কফি চাই আর সেখানে থ্রিলারের চরিত্র হতে গেলে খালি পেটে পোষাবেনা বাপু

ধ্যান করব নাকি উহহ আবার হাওয়া দিস কেন বাবা, একটু থামলেও তো পারিস। এই ভিজে শার্ট পরে এই ঠান্ডা হাওয়ায়, খালি পেটে ধ্যান করতে গেলে আমায় মহাপুরুষ হতে হবে। কাউকে ফোন করা যায়, তাতে মনটা অন্যদিকে ঘুরবে, বা বই পড়া যায় বা খেলা যায়, কিন্তু কিছুই করা যাবেনা। আমার অচল স্মার্ট ফোন যেটা কিনা এইসব কাজেই ব্যবহার করি তার চার্জ শেষ। আর যে ফোনটা কাজের, মানে যার থেকে ফোন করি সেটার চার্জ প্রায় তলানিতে, খানিকটা তো রাখতেই হবে।


অফিসের এক কলিগকে ফোন করে বললাম আমার ১১তা বাজবে সান্টা আনা স্টেশন পৌঁছতে সে যেন কষ্ট করে একটু আসে নিতে তার গাড়ি নিয়ে।আবোল তাবোল ভাবতে ভাবতে, কাঁপতে কাঁপতে ঘন্টা দেড়েক কাটালাম
এইসময় আরো একজন এলো. সেও আমার ওদিকেই যাবে।তার সাথে গল্প করে বাকি সময়টা কাটলো। ভদ্রলোক অ্যানিমেশন এর কাজ করতেন আগে। লাইফ অফ পাই এর কিছু গ্রাফিক্স এর কাজ হয়েছিল ওদের কোম্পানি থেকে।এখন নিজেই একটা ব্যবসা খুলেছে। ওর স্ত্রী আর ও। জমি বাড়ি কেনাবেচার। বোঝো! কোথায় অ্যানিমেশন কোথায় জমি-বাড়ি। আস্তে আস্তে আরো কিছু লোকজন এলো। ট্রেনও এলো। সারাদিনের ধকল এর পর ট্রেন এর উষ্ণ পরিবেশে ঘুমে চোখ জুড়িয়ে এলো। ওই ভদ্রলোককেই, সান্টা আনা এলে যেন আমায় একটু ডেকে দেয় অনুগ্রহপূর্বক বলেই ঘুম। 
স্টেশনে নেমে দেখি কলিগটি এসে গেছে। 



বাড়িতে খাবার ছিলোনা , কেনাও হয়নি, রেধে খেতে হবে ভেবেই খিদেটা দ্বিগুন হয়ে যাচ্ছিলো। এমন সময় রুমমেট এর মেসেজ পেলাম, আমি যেন কোনো দ্বিধা না করে ওর থেকে নিয়ে খেয়ে খেয়ে শুয়ে পড়ি। ...পৃথিবীটা যতটা কঠিন বলে লোকে অতটাও নয় বোধহয় না?

Monday, December 7, 2015

ভুলভাল

প্রেমে পরা আর ভূতে ভয় পাওয়া একই ব্যাপার। লজিক নেই তবু আটকানো মুশকিল। ভূত নেই তাই নিশুত রাত, গা ছমছম , বুক ঢিপঢিপ  কোনো মানে হয় না।  তেমনি , বেশিরভাগ  প্রেমেরই পরিনতি তো একই ,  হয় ব্রেক আপ না হলে সেই গতানুগতিক জীবন। মানে ৫ বছর পরেও তো আর আপনার ইডেন গার্ডেন এর পাশ দিয়ে হাঁটতে যাবার জন্য দুপুরের ভাতঘুম বিসর্জন দেওয়ার ইচ্ছে থাকবে না নাকি? তবু লোকে ভয় পাবে , পিসা খরচা করে দরকার হলে ভূতুরে  বই পড়ে  কিংবা সিনেমা দেখে।  আর ব্রেক আপ এর সেই ভয়াবহ দিন গুলো মনে রেখেও তুমুল বৃষ্টিতে সারা শহরকে অদৃশ্য করে পাশাপাশি হেঁটে যাবে দুজন।  তবে হাঁ  কেউ কেউ যেমন ভূত দেখেন নিজের চোখে ( তাদের আবার আমরা দেখতে পাই না , গোলমেলে কেস মশাই) তেমনি কারো কারো নাকি প্রেমের কোনো ডাউনফল হয়না ( এনাদের অবিশ্যি দেখা যায় , মানে শোনা যায়) .

******************************************************************************
আচ্ছা মানুষ মরে যদি ভূত হয় ডিম মরে কি হয়? মানে ধরুন গিয়ে আমি স্বর্গ/ বেহস্তে  গেলাম।  আমার হুর পরীর দরকার নেই , এখন বলুন যে ডিমটা মরে গেল , মানে পচে গিয়ে মৃত্যু বা সুসিদ্ধ /ভাজা হয়ে , সে কি অবস্থায় স্বর্গে পৌছবে? নিশ্চই ঝরঝরে দেহে , তারমানে পচার বা ফ্রিদ্গে এ জমে যাবার  আগের অবস্থায়? না না কূট  সন্দেহ করার দরকার নেই , আমার আজ ব্রেকফাস্টে ডিম ছিল না , তাই পচা হওয়ার চান্সও ও ছিল না।  হাঁ  যা বলছিলাম , তো তো ওই ওই ডিম আমি আবার ব্রেকফাস্ট এ খেলাম স্বর্গের গাছতলায় বসে (ধরে নিছি  বেহস্তের পাখিরা সভ্য হবে, মাথায় ইয়ে না করেও চলাফেরা করা যায় জানবে) সেক্ষত্রে ওই ডিমটির কি অবস্থা প্রাপ্ত হবে? মানে মানুষ মরলে ভূত , ভূত মরলে কি মানুষ মানে ডিম হবে আবার?
*******************************************************************************
এবার আরো কঠিন সমস্যা ধরা যাক যে ডিমটা মরে ডিম-ভূত হয়ে বেহস্তে হাজির হয়েছে তার সঙ্গে তার হতে পারতো বোন  এর দেখা হলো , মানে একই মুরগির ডিম আরকি , একজন মুরগি হলো একজন হলো না।  এবার দুজনকেই ধরা যাক আমি খেয়েছিলাম , একজনকে সকালে একজনকে দুপুরে , এবার রাত্রে পটল তুলে তিনজনেই বেহস্তে/স্বর্গে।  এবার আমার স্বর্গ আর ওদের এক হবে না , স্বাভাবিক ভাবেই ডিম এবং তার হতে পারতো  ভগিনীরা বলবে অমন স্বর্গের মুখে আগুন যেখানে ওই মানুষটা আবার আমাদের খাবে ! লজিক্যালি আমি যদি খান তখন কতক সুন্দরী যুবতীর সাথে গপ্প করতে করতে ভাবি একটা পোচ  আসুক , সেই সময় সেই ডিমের তখন পোচ  না হয়ে কোনো সুন্দরী ডিমিনীর  সঙ্গে গপ্প করতে সাধ হতেই পারে , সেক্ষেত্রে কার ইচ্ছে প্রাওরিটি পাবে , ভগবানের চোখে আমিও যা ডিমও  তাই তাইলে?
*******************************************************************************
ডিম যদি না আসে সেই সময় আমি নরকে যাওয়া প্রেফার করব।

*******************************************************************************
আজ একখানা পোস্টার দেখলাম। বাংলা তর্জমা করলে এরম দাঁড়ায়:
আমাদের ভালবাসার ধন , বুকের পাঁজর , আমাদের মেয়ে ফুলি (নাম খানও বাংলা করে দিলাম ) হারিয়ে গেছে। ও অসুস্থ , সুগার এবং ব্লাড প্রেশার দুইই বেশি। কক্ষনো ফুলি আমাদের ছেড়ে আগে থাকেনি। আমরা দুই বৃদ্ধ দম্পতি দুদিন ধরে এই বিচ্ছেদ বুকে নিয়ে বেঁচে আছি। কি করছে কি খাচ্ছে কিছু জানিনা। যদি আপনার কেউ খোঁজ পান আমাদের সাথে স্বত্বর যোগাযোগ করুন, যেকোনো সময়ে।
বললে বিশ্বেস করবে না , এ অব্দি পরে আমার মতো পাষন্ডের মনও দুর্বল হয়ে গেল। ল্যাপটপের ব্যাগ নিয়েই ফুলিকে খুঁজতে বেড়িয়ে পরছিলাম। তারপরই নিচের ছবিটার উপর চোখ পড়ল।

বি:দ্র: - নির্জলা সত্যি , ফুলির সুগার আর রক্তচাপের দিব্যি 
******************************************************************************
একা থাকার সবচে বড় সুখ হলো ভাত খেতে বসে যদি দেখেন চাল আধকাঁচা আছে বা গলে গেছে, মাংস বলে ভেবেছিলেন যাকে গরম করতে সে ঝোল প্রতিরূপ হইল , এমন দিনে সে খাবার খেয়ে মনের অস্বস্তি কাটাতে শনপাপড়ির বাক্স থেকে খাবলা মারতে পারেন, আপনার চামচ ইত্যাদি নেওয়ার দায় নেই , তারপর সেটা প্লেটে বাটিতে নিতে হবে না ( নিলেই ধুতে হবে ) , হাতে নিয়ে টেবিল এ ঠ্যাং নাচাতে নাচাতে মুখ ডুবিয়ে ডুবিয়ে খেতে পারেন। মুখ ময় শনপাপড়ি লেগে গেলে কেউ চেঁচিয়ে উঠবে না বা হেসে উঠবে না।শেষ পাতে তো মিষ্টিটা মশাই শাস্ত্রের বিধান , তাই খেয়েছেন বলে তো আর ফ্রিজে রাখা ক্রাঞ্চি ভানিলা মিল্ক আমন্ড চকোলেট বার কে উপেক্ষা করতে পারেন না। এবং এ কথা কে না জানে চকলেট বার না ছড়িয়ে খাওয়া মোদিকে দেশে পাওয়ার মতোই কঠিন ব্যাপার। তা সেসব যোগসাধনা তো আমার আপনার নেই মশাই তাই এসব ক্ষেত্রে নির্জন ঘরের কোন মশাই আদর্শ । আহা মুখ ময় আইসক্রিম লেগে যাওয়ার পরোয়া না করে ভেঙ্গে পরা চকলেট একহাতে ধরে বাকি আইস্ক্রিমটুকু খাওয়া...... স্বর্গ মসায়  স্বর্গ


Monday, November 16, 2015

দুইয়ের পিঠে আট



অনেকদিন লিখিনি কিছু , লেখার কি থাকে না, অনেক কিছু থাকে কিন্তু সমস্যা হলো লেখা যখন মনে আসে হাত তখন ক্রিমিনাল কেস খেলতে ব্যস্ত থাকে।.দুজনের বনছে না আর কি ,আসলে  ২৮ বছর কাটিয়ে দিল তো একসাথে। দাম্পত্য পুরনো হলে যা হয় তাই হয়েছে। তবে এবারের লেখাটা আমি জন্মদিন স্পেশাল করব ভেবেছিলাম, কিন্তু আমার ছোটবেলার সঙ্গী জ্বর ব্যাটা বাধ সাধলো। যাকগে, দেরী তো কি কোনো একটা মহাপুরুষ বলেছেন না 'যাব উঠে তব সবেরা ' বা এমনি কিছু একটা। 
তুষারপাত শুরু হয়ে গেছে। আগের বারের উত্সাহ এইবার নেই, বরং মনে হচ্ছে ওরে বাবা শীতকাল চলে এলো আবার।  কিন্তু সেদিন সারা রাত বরফ পরার পর সকাল বেলা বেরিয়ে মনটা ভালো হয়ে গেল।  হু হু হাওয়া দিছে, ঠান্ডায় দাঁড়ানো মুশকিল, তবু চোখ জুড়িয়ে যায়। গাছ, রাস্তা সব সব ঢেকে গেছে সাদা চাদরে, রোদ উঠেছে তাতে আরো ঝক ঝক করছে, দূরের পাহাড়টা থেকে ধোয়া বেরোচ্ছে।  





সেদিন রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে ছেলেমানুষের মত বরফ নিয়ে বরফের গোল্লা করছিলাম আর পাশের গাছে ছুঁড়ে ছুঁড়ে মারছিলাম, হাতে গ্লাভস ছাড়াই( জ্বরকে দোষ দিয়ে লাভ আছে কাকা) এইসব পাগলামি করতে পেরে মন্দ লাগছিল না. ভাগ্গিস কেউ দেখেনি, যদিও আমি হেড আপিসের বড়বাবুর মতো গোমড়া না , তবে এইরকম করতে দেখলে লোকজন আওয়াজ দিতো  নিসন্দেহে।  

ভাইফোঁটাপাওয়া বছর তিনেক হলো বন্ধ হয়ে গেছে, কিন্তু এ বছরটা অন্যরকম। অনন্যাদির কাছ থেকে ভাইফোঁটা উপলক্ষে গিফট পেলাম  , কাঁকনদি ফোঁটা দিলো। জীবনটা কখনো কখনো লীলা মজুমদার এর গল্প হয়ে যায় যেখানে দুখী মানুষদের জন্য পরীরা আসে রাতের বেলা , দুধ কমলা না পেলেও বর দিয়ে যায়। 
ভাইফোঁটা সাথে প্রাপ্তি যোগ 



লীলা মজুমদার বলতে খেয়াল হলো, এবার অনেক কটা পূজো সংখ্যা পরলাম, বেশির ভাগ গল্পে একটা মানবিক আবেদন দেখলাম আমার যেটা বড় ভালো লাগে। ছোটবেলায় যে গল্প গুলোয় দূর্বল ছেলে গুলো জিতে যেত সেগুলোই ভালো লাগত, নিজে দুর্বল বলেই বোধহয়। সেই জন্যই পাগলা সাহেবের কবরের ওই ছেলেটা সন্তুর থেকে বেশি আপন ছিল।  সন্তু তো ভালো ছেলে , সাঁতার, ক্যারাটে সব পারে , আর ওই অদ্ভূতুরের ছেলে গুলো কিছুই পারত না।  

নিজের জন্মদিন নিয়ে মাতামাতি অত্যন্ত বোকা /মূর্খ  না হলে কেউ করে না। আমি মুর্খ এবং বোকা দুটোই , তাই আমার জন্মদিন আমার কাছে বেশ একটা উত্সব উত্সব ব্যপার।  বাড়িতে থাকতে সকালে ৯রকম মিষ্টি (৯ কারণ একটা বিজোড় সংখ্যা দরকার আর এর  বেশি  রফা করা যায়নি ) , মটরশুটির কচুরি আর আলুর দম, পায়েস তো আছেই।  দুপুরে ৫ রকম ভাজা সহ সুখাদ্য , রাতে বিরিয়ানি।  নিজেকে রাজা রাজা ফিল , হত ওই যে মুর্খ তো তাই।  জানি এরকম করাটাকে আদেখলেপনা বলে তবুও আনন্দ এতটাই পাই যে মূর্খ  ভাবতেও কষ্ট  হয় না।  গতবার জন্মদিনটা লম্বা ছিল, IST টাইম জোন দিয়ে শুরু আর MT টাইম জোনে শেষ।  আসে পাশে কেউ উইশ করার মতো ছিল না, তাই নিজেই নিজেকে ট্রিট দিয়েছিলাম। p f  Chang বলে যে চাইনিজ চেইনটা  আছে ওখানে  , Genghis গ্রিল  বলে একটা মঙ্গোলিয়ান রেস্টুরেন্ট , যেখানে বিভিন্ন উপাদান সাজানো থাকবে আর নিজের ইচ্ছে মত জিনিস নিয়ে ওদের দিলে ওরা বানিয়ে দেবে সেইখানে আর ihop এ , ওখানে খুব ভালো প্যানকেক পাওয়া  যায় , আর ওদের চিকেন ফাহিতা ওমলেট এই সব দিয়ে নিজে নিজেকে উইশ টুইশ করে মন খারাপ কমানোর ব্যবস্থা আর কি।  
অনেকদিন থেকে ইচ্ছে ছিল BMW বা কোনো convertible চালানোর , তো জন্মদিন উপলক্ষে  bmw  একদিনের জন্যে তুলেছিলাম । কেনা কোনো দিন হবে বলে মনে হয় না একদিনের জন্যই হোক।তবে একটা ভয়ানক তথ্য পেলাম,   ফেরারী বুক করতে গেলে নাকি ৩৮" কোমরের মাপ হতে হবে!! গাড়ি চালাতে গেলে কোমরের মাপ জরুরি কেন সেটা ঠিক বুঝিনি অবশ্য। 


এখানে কয়েকটা বন্ধু হয়েছে তারা  কেক কাটলো , একজন বিরিয়ানি বানিয়েছিল। আমি এত কিছু এক্সপেক্ট করিনি ...হুম বসুধৈবম কুটুম্বম।  

Saturday, October 24, 2015

পূজো-মনকেমন

মাকে একটু আগে ফোন করেছিলাম, বোধন হয়ে গেছে, ঢেনকুড়  ঢেনকুড়  করে ঢাকের আওয়াজ আসছে। আমাদের দেশের বাড়ির পূজো। তেমন বড় কিছু না হলেও , একগাদা লোকজন , কেজো অকেজো নানা কিসিমের লোকের ব্যস্ততা, পূজোর সময় ঢাকি আর পুরোহিতের নাচ, ফাক পেলে মাঠে চলে যাওয়া।  মিস করছি।  আমাদের এখানে পরের সপ্তাহে পূজো হবে। টিকিটের দাম বেশ চড়া রেখেছে তাই এখনো দোটানায়আছি যাব কি যাব না, কারণ ওর ১/৪ টাকায়  দুবার বুফে হয়ে যাবে। তাছাড়া মেনু তেমন আকর্ষক না, আর এই সব ক্লাব কালচারের পূজোর মেন ফোকাসটাই  তো খাওয়া। দেখা যাক।  এদিকে এদের মানে আমার আমেরিকা নিবাসী ভ্রাতা এবং ভগিনীদের উত্সব এর দিন সমাগত। ভূত সেজে আনন্দ! ওরে আর কদিন সবুর কর, ভুশুন্ডি তে ডাক পড়ল বলে।  তখন আর সাজের দরকার নেই এমনি এমনই ভয় দেখাতে পাবি।

শীত আসছে। বেশ রোজই  একটু একটু করে টেম্পরেচার কমছে , গাছ গুলো ন্যাড়া হচ্ছে। আচ্ছা গাছেদের ঠান্ডা লাগে না? অন্তত শীতের সকালে যে হওয়াটা দেয় তাতে মন খারাপ ও তো করতে পারে!
দুদিন ধরে টানা বৃষ্টি হয়ে চলেছে। এমন মন খারাপ করা আবহাওয়া বেশি বাজে লাগে , এর চেয়ে বরফে ঢেকে থাক আর রোদ  ঝকমক করুক সে অনেক ভালো। টেম্পরেচার ৪৫F  এ স্থির। সকালে উঠতে বেজায় কষ্ট , তবু অফিস যাবার পথে খান কতক ছবি না তুলে পারিনি।






আজ তো দশমী হয়ে গেল। মা বলল এবার নাকি আলাদা আলাদা দলের জন্য আলাদা আলাদা ইভেন্ট ছিল, গান নাচ ইত্যাদি মিলিয়ে বিশাল হই হুল্লোর।কাকার ছেলে মেসেজ করেছিল, রাত একটাতেও মন্ডপে সবাই, দুর্গাকে যতক্ষণ আটকে রাখা যায় আরকি। আর দূর্গা ঠাকুরকেও বলিহারি বাপু, এত খাতির করে লোকে রাখতে চায়,পাঁজি ওলাদের কানমুলে দিতে পারে না।  আসলে দুর্গার দুকখুটা  খালি আমি জানি, অমন নিরামিষ খাওয়ালে কে থাকবে, হুহ। একদিনে পালায় না বাঙালির বাপের ভাগ্গি।

ও হাঁ এক গল্প তো বলা হয়নি ,কয়েকদিন আগে আমরা ঘুরতে গেছিলাম Bryce ,Zion আর আরিজোনার horseshoe বেন্ড। ওখানে যেতে যেতে একখান মস্ত কেস খেয়েছিলাম, গাড়ির স্পিড লিমিট ছিলো ৮০মাইলস/ঘন্টা। আর তেজা চালাচ্ছিলো ১১০-১২০ তে, এক ব্যাটা পুলিশ ক্যাঁক করে ধরেছে। ইয়ার্কি পায়া ক্যা , ইত্যাদি বলে বলল জেনে শুনে এইসব করার শাস্তি জানো , দাও লাইসেন্স।  আমরা হৃত্পিন্ড হাতে নিয়ে ভাবছি কি হয় কত ফাইন করে, দেখি মামা এসে ওয়ার্নিং দিয়ে ছেড়ে দিল।  আমরা তো হাঁ , এমন হয় নাকি। যাই হোক তারপর থেকে আর কোনো রিস্ক নেইনি বাবা। এই গল্পটা মনে পড়ল কারণ আমার আবার ঘুরতে যেতে ইচ্ছে করছে।


আচ্ছা এরকম মন খারাপ করা পূজোয় একটা খুশির খবর আসছে, খানকতক বাঙালি জুটেছে আমাদের এখানে, বাঙালি আর পুজো নেই তাও কি হয়, ব্যাস লাগাও লক্ষী পূজো।  আমি প্রথমে উত্সাহ পাচ্ছিলাম না নিরামিষ বলে, এর চেয়ে কালী পূজো  করলে কেমন হয় , কালী আর লক্ষী সে তো একই ইত্যাদি অনেক লড়াই এর পর মিমাংসা হয়েছে লুচি আলুরদম আর নাড়ু  হবে। এই তো জীবন  কালীদা। ..









Monday, October 5, 2015

এটাসেটামিক্স

দেখতে দেখতে বছর ঘুরে গেল।  আমার একলা বকার রোগ ছোটবেলার , কিন্তু ঘাড় ধরে সক্কলকে পড়ানোর রোগটার কথা বলছিলাম আরকি। গত বছর এরকমই একটা সময়ে, যখন ঠান্ডা হওয়ার ঝাপটা শুরু হয়েছে , গাছেদের একটা দল সব পাতা ঝরিয়ে বিবাগি আর একটা দল বিবাগি হওয়ার আগে যথাসম্ভব নিজেদের রাঙিয়ে নিচ্ছে হলুদ লালে (লাল হলুদ রংটা মাঠে যতই বিচ্ছিরি হোক, গাছে গাছে মন্দ না, তবে ইটা অবশ্য হলুদ সবুজ লাল ,মোটেই লাল-হলুদ না)। আহা এইসময়টা গাছেদের নিশ্চই খুব খারাপ লাগে কিন্তু আমার দারুন লাগে। একা একা বিভিন্ন রঙের গাছেদের তলায় বিছানো কার্পেটের উপর দিয়ে হেঁটে যেতে।  আর কখনো ফিসফিস করে কখনো তাদের জিগ্গেস করেছি  কিরে এত যে আমোদ আল্হাদ করছিস জানিস তো দুদিন বই নয়, কদিন পরেই সব বেমালুম ফাঁকা হয়ে যাবে।..মন খারাপ করবে না? আমার বোকামিতে তারা বোধয় মুচকি হাসে , বোধহয় ফিসফিসিয়ে বলে ওহে বেশি ডায়লগ না দিয়ে নিজেদের দিকে তাকাও, দুদিন বই নয় জেনেও যা কান্ডটা কর তার চেয়ে বরং আমাদের থেকে শিখলে পারো কেমন করে নিজেদের রঙ্গিন করে নিতে হয়! তা যাক যে কথা বলছিলাম,দূরের পাহাড়গুলো আর কদিন পরেই বরফ টুপি পরা শুরু করবে তারপরেই ঠান্ডার রাজামশাই এসে একে ফুঁয়ে সব সাদা করে দেবে। এরকম একটা সময়েই আমার এই এলোমেলো হিজিবিজি লেখার শুরু। সারা বছরে কত কি ঘটল, কখনো লিখেছি কখনো লিখিনি। 
মাঝে মাঝে আমার মনে হয় যক্ষ ঠিক একবছরের জন্য নির্বাসিত হয়েছিল বুঝি মেঘদূতম লেখার জন্যই।  ২০১১ সালে আমি প্রানপন চাইতাম কলকাতার বাইরে যেতে, যেখানে হোক, মরুভূমি মালভূমি যেখানে ইচ্ছে, খালি "এই শহর যেন আমার পিছু পিছু না আসে' । আর এখন বাড়ি ফেরার জন্য ছটপট করছি , খালি মনে হচ্ছে বাকি দিন গুলো তাড়াতাড়ি  কেটে যাক।  আসল কথা আমার পালাতে ইচ্ছে করে, কোনো জায়গায় বেশিদিন থেকে গেলেই মনে হয় আমার বুঝি শিকড় গজিয়ে যাবে, তখন পালাতে ইচ্ছে করে। 

মহালয়া আসছে, তারপরেই পূজো। পূজো নিয়ে বেশিরভাগ লোকের দুটো মত , এক হয় ৪তে দিন আড্ডা, ঠাকুর দেখা (মানে ক্যামেরায় , আজকাল তো নিজের চোখে কেউ কিছু দেখে না ) , গুছিয়ে খাওয়া আর না হলে ফেসেবুকে কমেন্ট দেব উফ, এই পুজোর কদিন লোকের আদিখ্যেতা দেখলে বিরক্ত লাগে, ইত্যাদি। আমার মত নাস্তিক মানুষের দ্বিতীয়টাই হওয়া উচিত ছিল হয়ত, কিন্তু আমি যেকোনো উত্সব চেতে পুটে উপভোগ করি, বড়দিন হোক কি দুর্গাপূজো একটু তফাতে থেকে হই হুল্লোড় দেখা আমার বেশ লাগে। একদম ছোটবেলায় পূজো ছিল একরকম, রোজ একটু একটু করে চোখের সামনে ঠাকুর তৈরী হওয়া, সব ভাই বোন , ভাগ্নে ভাগ্নি আসবে তার অপেক্ষা , নতুন পূজোবার্ষিকী আর নতুন জামার গন্ধ , ঠাকুর কেমন হলো কাদের ঠাকুর বড় তাই নিয়ে চুলচেরা মতামত! হই হই করে ৪টে দিন কেটে যেত। আর একদশীর দিন যখন সবাই চলে যেত কি মন খারাপ !! ওই ফাঁকা  ঠাকুর দালানটা পান্ডেল খোলা ফাঁকা  সদর সব কিছু যেন কিরকম হাঁ  করে আসতো।  আরো একটু বড় হয়ে পূজোর  দিনগুলো ছিলো বড় হয়েছি তার প্রমান দেবার দিন, মানে গাছ বোম বেধে আসতে পারি, ঢাক বাজাতে পারি, ক্রিকেট থেকে গান সব বিষয়ে মতামত দিতে পারি। তারপর ১১-১২ নাগাদ ওটা হয়ে গেলো বোরিং পুজো, আত্মীয়ের কেউ আসেনা, সবার পড়ার চাপ, আমার বাদে ... 
সে যাই হোক তারপর কলেজে উঠে বড় হয়ে যাওয়া পূজো, হোলনাইট ঠাকুর দেখতে পারি বন্ধুদের সাথে,  ষষ্ঠীর বোধন বা সপ্তমীর সকালের কলাবৌ চানের সাথে ঢাকের আওয়াজ এর থেকেও বেশি বন্ধুদের সাথে আড্ডা মারায় আনন্দ বেশি। 
আর এখন , এখন পূজো খালি ফেসবুকেই। মহালয়ার ভোর মানে আমার ঝকঝকে বিকেল।  তাই আধঘুমে এখন আর মহালয়া শোনা বা শুনতে শুনতে নতুন গান আবিষ্কার করা (ইয়ে মানে প্রতিবার আমি মহালয়া শুনি সত্যি বলছি , তবু প্রতিবার কি করে একটা নতুন গান বা একটা নতুন অংশ আবিস্কার করি কে জানে) কিছুই হবে না।  
তাই বলে হা হুতাশ করছিনা মোটেও, যা নেই খালি সেটাই ভালো বলার মতো বুড়ো আমি এখনো হয়ে যাইনি। এইত Aspen ঘুরে এলাম, সাথে hanging  লেক। হ্যাঙ্গিং লেক এর hike  টা কিন্তু বেশ পরিশ্রম সাধ্য। ১.২ মাইল ১০০০ এলিভেশন।  তো বেশ হাঁচোর  পাঁচর করে উঠতে হয়।  উঠতে উঠছে ভাগ্গিস জিরোনোর জন্যে থামতে হয়. তা না হলে এমন রংবেরঙেরগাছের নিচে , কুলকুল করে বয়ে যাওয়া জলের শব্দ শোনার অবকাশ ঘটত নাকি।  লক্ষ্যে পৌঁছোনোটা  জরুরি তো বটেই তবে আমার কাছে পথের আকর্ষণ ও কম না। এবং সারাক্ষণ ক্যামেরার নিচে চোখ দিয়েও না, অনেকে আছে আমার একবন্ধু আছে যে পারলে রাস্তার  প্রতিটা বাঁকের ছবি তোলে , এদিকে চোখের থেকে দামী লেন্স যে হয়না আর তাই সব ছবিই যে পরবর্তী কালে একই বাঁক বলে মনে হবে সে তার মাথায় ঢোকে কে!  ছোটবেলা থেকে যারা খুব খেটে ঘুড়ি না উড়িয়ে কিংবা, পড়ার বই এর ফাঁকে গল্পের বই না পরে বড় হয়েছে তাদের জন্যে আমার মায়া হয়, ওরা এই ছায়া ঢাকা পথের মজাটাই নিতে পারেনি কখনো।  আমি যদিও একটা গ্রুপ এ  গেছিলাম,কিন্তু একটু তফাতে আলাদা  হাটছিলাম, এইসব জায়গা যেখানে শোনার অনুভবের এত জিনিস আছে মাঝে মাঝে জনসমাজ থেকে বিছিন্ন হয়ে যেতে মন্দ লাগে না। 
hanging লেক এর উপরে 

Hanging lake 

Aspen নাকি একটা গাছের নাম।  আমি অবশ্য যাবার আগে জানতাম না। Aspen জায়গাটাও বেশ।  ওখানে Maroon Bells বলে একটা জায়গা আছে,  সেখানে তিনদিক পাহাড় ঘেরা একটা লেক আছে। একটা পাহাড় ন্যাড়া , মারুন রং এর একটা পাহাড় সবুজ ঢাকা,  আর একটা হলুদ গাছ এ ভরা। সামনে ছোট্ট  লেক , সূর্যের প্রথম এল এসে ওই মারুন রঙের চূড়ায়  পরে ,  আর তারপর একটু পরে রোদ উঠে আসে যখন পাহাড়ের মাথায় ওই হলুদ পাহাড়টায় সবুজ, লাল আর হলুদ এর এক অপূর্ব ক্যানভাস তৈরি হয়ে যায়।  
Maroon Bells 


পুজোর সময় এমনিতেও সবাই ক্যামেরায় ছবি তুলতে ব্যস্ত থাকবে, আমি fb  তেই দেখে নেব। আড্ডাটা  মিস করব, ঠিক আছে পরের বার হবে না হয়। পূজোর আগাম শুভেচ্ছা রইলো সবার জন্য ।




Wednesday, September 30, 2015

ঘুরতে ঘুরতে (নিউয়র্ক)....শেষ

মেট্রোপলিটন মিউজায়াম টা  সত্যি দারুন। মানে ওই মার্ক টোয়েন এর লাইব্রেরির মতো। আমেরিকার ইতিহাসতো খুব পুরনো কিছু না , আর ওদের নিজস্ব শিল্প কলাও কিছু বিশেষ উল্লেখযোগ্য না কিন্তু সারা বিশ্ব থেকে জোগাড় করে যা বানিয়েছে তা সত্যি দেখার মত। এমনকি একটা আস্ত মন্দির অব্দি তুলে এনেছে!





ইজিপ্সিয়ান কালেকশন টা  দেখতে দেখতেই সময় কেটে যাবে। মিশর আমার বেশ রহস্যময় লাগে, কিসব কান্ড করেছিলো সেই কত্তদিন আগে!

এমনি করে ঝগড়া করতো 

এইটা কি করছে একদম বুঝতে পারিনি, লেখা ছিল বটে দূর অত পড়া  যায় নাকি!

মমি করে রাখবে বলেছিলো , তাই মুখটা কেমন হয়ে গেছে :(

এই ভাবেই মমি করতো , ব্যাস আর কি সব লেগে পরো 

রাগের ধরনটা অবশ্য এখনো একই রয়ে গেছে 

আমার অবশ্য ছবির ব্যাপারে জ্ঞান্গম্মি বড়ই কম, তাই ওদিকটা খুব বেশি সময় দেবোনা  জানি, এমনকি ইউরোপিয়ান কালেকশন এ যে সব ভাস্কর্য দেখে লোকে আহা বাহ বলে আমি সেগুলো তেমন বুঝি না. খালি একটা মূর্তি খুব নাড়া দিয়েছিল। রোমান ভাস্কর্য। একজন লোককে তার ছেলে এবং নাতি সমেত একটা ঘরে আটকে রেখে দিয়েছিল।  হয় উপোস  নয় কানিবালিজম। মুর্তিগুলো দেখে আর লেখাটা পরে আমার টিফিন বাক্স আর খোলা হলো না।  
:(

অস্ত্র-শস্ত্র আমায় খুব টানে।  নিজে খুব একটা বীর  নয় তো ,তাই চোখ বুজে অসি ঝনঝনাই। কত্তরকমের পিস্তল।  একা একা ঘোরা বোরিং হতে পারে কিন্তু একা একা ঘুরলে অনেক কিছু দেখা যায় চোখ খুলে আর চোখ বুজে।  যেমন ওই পিস্তল গুলো দেখে তারিনী খুড়োর  ডুয়েল এর কথা মনে পরে গেলো।  এক মুহূর্তে  আমি বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত শহর থেকে লখনৌ এর একটা ভোর বেলায়  পৌঁছে  গেলাম। 


ফিরতে সময় বেশি লাগলো না অবশ্য , কারণ পেটের মধ্যে ছুঁচো  গুলো ডুয়েল লড়তে শুরু করে দিয়েছে। বেশিক্ষণ মিউজিয়াম এ থাকলে কান কট কট , পা মোচর  ইত্যাদি নানা উপসর্গ দেখা দিতে পারে।  তাই বেড়িয়ে  পরলাম সেখান থেকে।
১১-১২ এ পড়তে কেষ্টপুর  যেতাম টিউশন পড়তে, তো বাগুইআটি থেকে কেষ্টপুর বাসের পাদানি তে চড়ে  যেতাম , আর ওই পয়সাটা দিয়ে বিকেলে ঘুগনি বা আলুরদম খেতাম। এদের দোতলা বাস গুলো ভালো কিন্তু পাদানিতে চড়ে  যাওয়া দূর একটা স্টপেজে যাওয়া যায়না , পুরো দিনের টিকেট কেটে সব কটা  দ্রষ্টব্য স্থান ঘুরতে হবে।  জঘন্য ব্যপার। 
আমার এক বন্ধু অফিস ফেরতা আসবে , দুজনে মিলে  টাইমস স্কোয়ার  আর সেন্ট্রাল পার্ক যাব একা একা এই দুজায়গায় অন্তত ঘুরে মজা নেই তেমন। যে কোনো শহরের রাস্তায় হেঁটে  বেড়ানোর একটা আলাদা মজা আছে। কত কিসিমের মানুষ দেখা যায়, কতরকম নতুন জিনিস পত্র দেখা যায়।  আর একটা জিনিস, ভালো লোকের সংখ্যা যে কত তাও টের  পাওয়া যায়। যেমন মেট্রোপলিটান  মিউজিয়াম থেকে বেরিয়েই ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি শুরু হলো। ছাতার ব্যবহার আমার মোটামুটি অজানাই বলা যায়। ঠিক সামনেই একটা হট হগ ষ্টল ছিল, ভ্যাবলার মত ভিজতে দেখে স্টলওয়ালা তার স্টল এর নিচে দাঁড়াতে বললো ! এ জিনিস কলকাতার রাস্তাঘাটে হর হামেশাই হয় কিন্তু এমন কেতা ধারী  শহরে এমন প্রস্তাব! ব্রুকলিন ব্রিজের সামনে কতকগুলো আফ্রো আমেরিকান রোড শো করছিল। আমি শুনেছি আমাদের দেশে গাঁয়ে  নাকি এজিনিস দেখা যেত, তবে আমার কাছে নতুন। খান কতক ছেলে হেসে নেচে কুঁদে অভিনয় করার পর যখন টাকা চাব শুরু করলো, তার আগের ডায়লগ তা বেশ। "তোমরা ভাবছ হয়ত এইসব টেলেণ্টেড ছেলেপুলেরা এখানে কি করছে।.উমমহাঁ ঠিক ধরেছেন টাকার জন্য, তাই লজ্জা ত্যাগ করে একে ডলার দিন " ।

আমার খুবই ইচ্ছে ছিল সেন্ট্রাল পার্ক এ খানিকক্ষণ সাইকেল চালাবো , কিন্তু কি বলব মশাই। কি খোরাকটাই  না হলাম। আমি আর আমার বন্ধুটা  গেছি, দুটো সাইকেল নেব।  দাম জিগ্গেস করায় বলল নাকি ও সস্তায় দেবে খুব আর বাচ্চার সাইকেলটা ফ্রি!! রেগে গিয়ে  শিগগির চলে এলাম, লোকটা অবশ্য ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেছিল, বুঝলনা কেন রেগে গেলাম, ফ্রি শুনে তো লোকে খুশি হয়! 

খুব খিদে পেয়েছে।  পান -আহারের   সন্ধান করতে হয়।  এদিক সেদিক ঘুরে জিপিএস দেখে ৪কাছাকাছি যেখানে পৌঁছলাম  , সম্ভবত জায়গাটাতে  ফরাসী বেশি থাকে। মানিব্যাগ এর মায়া ত্যাগ করে এক বেশি কেতাওয়ালা রেস্টুরান্ট এই ঢুকেছি। এদেশে খাবার দাবার , বা পানাহারের জন্য বেশি কেতাওয়ালা জায়গায় যাবার দরকার পরেনা, মানে যেতে তো পারেনই , সে যাই হোক , নেহাত আমাদের খিদে পেয়েছিলো খুব।  কি বলবো আর ইংরাজি যে অমন ফরাসী হয়ে যায় মেনুকার্ড  না দেখলে বুঝতেই পারতাম না! কিচ্ছুটি  বুঝতে না পেরে একখানা চিকেন লেখা আছে এরকম ডিশ  অর্ডার দিলাম। অর্গানিক চিকেন নাম ছিল। অরগানিক মানে হেলদি চিকেন হবে ভেবেছি, এলো কিনা , কুমড়,বেগুন আর চিজ দিয়ে চিকেন!!! হাঁ রান্না নাই বা জানতে পারিস, আমিও জানিনা, তাই বলে কুমড়ো  দিবি চিকেনে! অর্নবদার বাড়ি গিয়ে, বাঙালি মাছ খেয়ে তবে স্বস্তি, তার আগে অব্দি বাসএ ক্রমাগত স্বপ্ন দেখেছি, একটা মুরগী  তার মুখটা কুমড়ো, আর সে বেগুন বিক্রি করছে....