হাঁটতে বেরিয়েছি একটু। সার্ভিস রোড ধরে হাঁটতে হাঁটতে চোখে পড়ে কতকগুলো পিঁপড়ে চলেছে। দুজনের একজন আমার পায়ের কম্পনে মরার মতো পড়ে রইল মাথা গুঁজে, প্রার্থনা করছিল কিনা জানিনা। আরেকজন পাঁইপাঁই করে পালালো। আমার কাছে ওরা দুজনেই দৃশ্যমান। কাকে মারবো, কাকে বাঁচাবো, কাকে তাড়া করব আমি জানি বা জানিনা, কিন্তু যেটাই করব, সেটাই পরের প্রজন্মের পিঁপড়ের কাছে উদাহরণ হয়ে যাবে। ভূমিকম্পের সময় এরকম করতে হয়। প্রার্থনা বা দৌড়।ভগবান হওয়া খুব সোজা বেশ। ছায়া হয়ে দাঁড়ালাম তাদের যাবার পথটায়। বাড়ি ফিরে সে ছায়াদানকারীর জন্যে প্রার্থনা করবে, উপাসনা গৃহ বানাবে। মন্ত্র তৈরী হবে। বেরোনোর আগে প্রার্থনা। ছায়াটুকু রেখো।ওর চোখে আমি দৃশ্যমান নই, ওর প্রার্থনা আমি শুনতেও পাইনা জানতেও পারিনা বুঝতেও পারিনা। ইনফ্যাক্ট আমি এতটুকু বিচলিতও নই। কিন্তু ও হয়তো আমায় সর্বশক্তিমান ঈশ্বর ভাবছে। পিঁপড়ে আর মানুষের এই অবস্থানটা আমায় প্রায়ই ভাবায়। মানুষের থেকে এরকম বড় প্রাণী আছে আশেপাশে? যাকে দেখিনা, যার জীবনে আমার প্রভাব নেই কোনো অর্থেই, কিন্তু তার জন্যে আমরা লড়ে যাই?
হাঁটতে হাঁটতে একটা জায়গায় এসে পড়লাম, আশেপাশে লোকজন নেই। একটা পরিত্যক্ত দোতলা বাড়ি আছে। মস্ত মস্ত জানালা। কে জানে কবে, কে কোন শখে বানিয়েছিল। কটা ঝোপঝাড়, খেজুর গাছ।শান্ত একটা পুকুর। মস্ত পুকুর। দিঘী কিংবা ঝিল বলা যায়। অনেকদূরে কটা গরু আপনমনে ঘাস চিবুচ্ছে। জলের মধ্যে মাঝে মাঝে মাছ ঘাই দিচ্ছে। স্নিগ্ধ হাওয়ায় হেঁটে আসার পরিশ্রম দূর হয়। একটা দুটো বক উড়ে যায়। হলদে রঙের একটা ছোট্ট প্রজাপতি নাম না জানা ছোট্ট ছোট্ট গাছেদের উপর দিয়ে উড়ে বেড়াচ্ছে। গাছ চিনিনা বলে, গুগল লেন্সে ফেলে ফেলে দেখছিলাম একটা একটা গাছ। সঠিক হয়তো না, কাছাকাছি কোনো গাছের ছবিই দিচ্ছে, তা হলেও সব কটা গাছই ওষধই গাছ বলছে। অথচ এসব কেটেই, সাফ করেই বসত উঠছে! আর কী গাছ লাগাচ্ছে, না করবী! চরক সুশ্রুতের কত দিনের জ্ঞান এক লহমায় নেই করে দেয়। এমন বোকা পাঁঠারাও হয় কি?!
একটা শামুক পাতার উপর আরামে শুয়ে। লেজঝোলা, দোয়েল পাখি উড়ছে, বসছে। একটু দূরের বড় রাস্তা দিয়ে হুশ হুশ গাড়ি বেরিয়ে যাচ্ছে, পাশের রাস্তা ধরে খানিক গেলেই এমন আশ্চর্য ধনসামগ্রী, তার খোঁজ পায়নি। অবশ্য ধনদৌলত বস্তুটাই হাত ফিরলে এমন দাম বদল হয়, আদৌ তার অস্তিত্ব আছে কিনা সন্দ জাগে। যে লোকটা অসুস্থ হয়ে হাঁটতে পারেনা তার কাছে যেমন টাকার দামের থেকে সুস্থতার দাম বেশী, তেমনই আবার যে খেতে পায়না টাকার জন্যে, তার কাছে টাকার দাম খোলা হাওয়ার থেকে বেশী। কবে কোথায় যেন পড়েছিলাম, সত্য এক ও অনিত্য। তাই যদি হয়, তবে ধন মানেই দামী এ তো সত্যি হয় না। যা অনিত্য তা তা তো সত্য নয়। আবার সেই অনিত্যতায় কাউকে আকাশ দেখতে না দিয়ে বন্দী করে রাখলেই তার কাছে আকাশ দেখার মতো দামী কিছু না এ কথা মিথ্যে হয়ে যায় না! সত্যি আসলে আপেক্ষিক কিংবা মায়া!
আহা কী মায়াবী! এই পুকুর পাড়েই বসে থাকা যায় সারাদিন - সৌগত
ReplyDeleteঅনেক অনেক ধন্যবাদ সৌগতদা। তা যায় বটে, বিশেষ করে এই শীতের সময়।
ReplyDelete🎼
ReplyDelete